মরসুমী ফুল

পৌষ-পার্বণে পিঠেপুলির জন্য মাটির সরা বানাতে ব্যস্ত বাংলার মৃৎশিল্পীরা

 

শীত মানেই নলেন গুড়ের মিষ্টি গন্ধের সাথে পিঠে-পায়েস। তাই পৌষ পার্বণের দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্‍ শিল্পীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। চরম ব্যস্ততায় নাওয়া-খাওয়া প্রায় ভুলেই গিয়েছেন বাংলার মৃত্‍ শিল্পীরা। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম পার্বণ হল পৌষ-সংক্রান্তি। আর এই উৎসবের জন্য হাতে সময় রয়েছে এক মাসের সামান্য কিছু বেশি। ‘মাসিমা মালপোয়া খামু’, বাংলা সিনেমায় এই বিখ্যাত প্রবাদ যা প্রতিটি বাঙালি বাড়ির অন্দরমহলের কথা হয়ে ওঠে।  এই পিঠে পুলি তৈরি করতে প্রয়োজন মাটির তৈরি সরা। এ রাজ্যের মৃত্‍ শিল্পীরা এই সরা তৈরি করতে করে যাচ্ছেন অক্লান্ত পরিশ্রম।

 

এঁটেল মাটির সঙ্গে প্রয়োজন মতো জল মিশিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে সেই মাটিকে মাখিয়ে সরা তৈরির উপযোগী করে তোলা হয়। এরপর নরম মাটিকে ছাঁচে ফেলে বিভিন্ন আকৃতির সরা তৈরি হয়। কোনও সরার নাম এক খুঁটির সরা আবার কোনওটি সাত খুঁটির সরা। প্রতিটি সরার জন্য একটি করে মাটির ঢাকনাও তৈরি করেন কুমোররা। চলতি ভাষায় এটি ঢাকন নামে পরিচিত। এরপর সরাগুলিকে রোদে শুকিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়। তারপর সেগুলিকে একটি একটি করে বাছাই করে পাইকারি ও খুচরো হিসেবে বিক্রি করা হয়। মৃত্‍শিল্পী লক্ষ্মী পাল, কল্পনা পালরা জানান; এখন আর আগের মত সরা-ঢাকনের চাহিদা নেই। কারণ বর্তমানে শীতের দিনগুলিতে হাটে বাজারে পিঠে-পুলি বিক্রি হচ্ছে। বাড়িতে পিঠে পুলি বানানোর হ্যাপা অনেকেই আজকাল নিজের ঘাড়ে নিতে চান না। অন্যদিকে মৃত্‍ শিল্পী দীনেশ পালের কথায়, ‘সরা, ঢাকন বিক্রি আগের চেয়ে অনেক কমেছে। তার উপর মাটি সহ জ্বালানী খরচ বাড়লেও সেই অনুপাতে সরা, ঢাকনের দাম পাওয়া যায় না। বাপ ঠাকুরদার ব্যবসা ঠিকিয়ে রাখতে আমরা এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে রয়েছি। যদিও নতুন প্রজন্ম এই পেশা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।”

প্রতিবেদক – পল মৈত্র

 

Promotion