কাটাকুটি

‘ভারতবর্ষ’ রিভিউ – দেখুন তো, এটাই কি আমাদের সেই ভারত?

“এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না” হলেও, এই মৃত্যু উপত্যকাই আসলে আমার দেশ । হ্যাঁ, ভারতবর্ষ । ২২ জানুয়ারি, বুধবার নৈহাটি ঐকতান মঞ্চে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের নাটক ‘ভারতবর্ষ’তে উঠে এলো বর্তমান পরিস্থিতি। এটাই তো স্বাভাবিক, থিয়েটার যে প্রকৃত অর্থেই সমাজের আয়না তা প্রমান করলো ‘বিহঙ্গ’। তাদের প্রথম পূর্নাঙ্গ নাটক ‘ভারতবর্ষ’। নামটা শুনে মনের ভেতর কেমন একটা খুঁতখুঁত করছে না? মনে হচ্ছে তো কোথায় যেন শুনেছি নামটা? আজ্ঞে হ্যাঁ, সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পরিচিত নাম। তারই লেখা ‘ভারতবর্ষ’ থেকে আধারিত এই…উঁহু সম্পূর্ণ নয়, কেবল মাত্র ‘বুড়ি’ চরিত্রটিকে বেছে নিয়ে নতুন করে কাঠামো বেঁধেছেন নাট্যকার ও পরিচালক সৌপ্তিক পাল।
গল্প এগিয়ে চলে চা-ওয়ালা হাসানের বয়ানে। আর সুরে সুরে গল্প বাঁধে, ছোটে। আর তার সঙ্গী দুই বাদক। বটের ঝুরি আর আলোয় তৈরি হওয়া গাছের নিচে জন্ম হয় ঢেলা বাঁধাতলা চত্বরের ভারতবর্ষের। লোকে বলে যা নেই ভারতে, তা নেই ভারতে। এই নাটকেও সব আছে৷ প্রেম-দ্বন্দ্ব-বিচ্ছেদ এই সবের অভিঘাতে বিহঙ্গের ভারতবর্ষে তৈরি হয়েছে। এ এমন এক ভারত যা আমাদের সবার পরিচিত। চাকরির প্রশ্ন, খিদের প্রশ্ন, অধিকারের প্রশ্ন ছাপিয়ে যেখানে বড় হয়ে ওঠে ‘বুড়ি তোমার জাত কী?’- এই প্রশ্ন। আর তাই সাজিয়াকে রাজু ভালবাসলে সেটাকে পাপ বলা হয়। ধর্মের বলি হতে হয় সাজিয়া এবং সেই চা-ওয়ালাকে। “রাজার ওপর রাজা আছে, বাপের ওপর বাপ; যার হাতে সব টাকা আছে সেই কেউটে সাপ”, গানের কথা চূড়ান্তভাবেই ভাবায় দর্শকদের। নাটকের কলাকুশলীদের অভিনয়ের জড়তা আগামী দিনে কাটিয়ে উঠে এই নাটক সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার দাবী রাখে। আলো এই নাটকের বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারত। বাকি দিকগুলোর সঙ্গে এই বিষয়টির অসামঞ্জস্যতাই এই নাটকের একমাত্র খামতি। ছোটের গান ও মঞ্চে তৈরি হওয়া মিউজিক এই নাটককে আলাদা ‘এনার্জি’ দেয়। বিরতির সময় মঞ্চের বাইরে কীর্তন ও হরির লুট এনে দেয় এক নতুন আমেজ। অভিনেতাদের অভিনয় যথোপযুক্ত। যদি এই নাটকের সংলাপে ও বিষয়ে আপনার গা ঘিনঘিন করে থাকে, মনে হয়ে থাকে -‘ইস অভিনেতাদের মুখে এ কী ভাষা!’ রুচিশীল বঙ্গ থিয়েটারের গায়ে এ কী ঘেয়ো দাগ! তবেই বোধহয় এই নাটকের সার্থকতা। ‘নাচ গান মৌজ মস্তি’ পুষ্ট এই থিয়েটারটি আরও অনেক মানুষকে নাড়িয়ে দেবে, ঝাঁকিয়ে দেবে এমনটাই আশা করা যায়।
কলমে সায়ন সেন

Promotion