Editorial

ইউক্যালিপটাস লাগিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করবেন না!

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ওয়াকিবহাল মহল চিন্তিত বিশ্ব জুড়েই। খুব তথ্য জানা না থাকলেও প্রতি বছর বেড়ে চলা গরম, অনিয়মিত বর্ষা থেকে শুরু করে কখনওঁ খরা তো কখনওঁ বন্যার অভিজ্ঞতা। এসবই সাধারণ মানুষের কাছেও প্রকৃতি রক্ষা করার দায় হাজির করে দিয়েছে। এ বছরই চেন্নাই সহ দেশের নানা অঞ্চল জলশূণ্য হয়ে পড়া এবং প্রতি বছর গড়ে ২০ হাজার হেক্টর জঙ্গল ধ্বংস হতে থাকার ঘটনায় জনসাধারণ বুঝেছেন প্রকৃতির রোষের হাত থেকে বাঁচতে গেলে প্রকৃতিকে বাঁচাতেই হবে। প্রকৃতিকে বাঁচানোর জন্য প্রচুর পরিমান গাছ লাগাতে হবে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই যুবসমাজ এই কাজ হাতে তুলে নিয়েছে নিজের থেকেই। বিভিন্ন উদ্যোগে চলছে গাছ লাগানোর কাজ।

তবে এর সঙ্গেই নজরে এসেছে এমন খবরও যেখানে বলা হচ্ছে নির্বিচারে গাছ রোপণ প্রকৃতির ক্ষতি করে। স্কুলের বিজ্ঞান বইতেও পড়ানো হয় অনুপ্রবেশকারী উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমস্যা। জাতীয় অরণ্য সপ্তাহে বনবিভাগের বণ্টন করা চারা গাছের মধ্যে পঞ্চাশ শতাংশের বেশি থাকে অনুপ্রবেশকারী উদ্ভিদ। এই ধরনের গাছেদের মধ্যে অন্যতম হলো ইউক্যালিপটাস গাছ। কৃষ্ণের মতই এর নানা নামের অবতারণা করা হয়েছে। শান্তিনিকেতনের যে সোনাঝুরি গাছ দেখে মধ্যবিত্তের মনে গান গাইবার ইচ্ছে জাগে সেই সোনাঝুরিও ওই ইউক্যালিপটাস। আবার আকাশমনি নামের একটু খর্বকায় ইউক্যালিপটাস ছেয়ে ফেলেছে মধ্য ভারতের প্রাকৃতিক শাল অরণ্য। একটু দেখি এর সমস্যাগুলি কী কী?

  •  এটি ভারতীয় উপমহাদেশে বহিরাগত বা ইনভেসিভ প্রজাতি। বাংলা তর্জমাতে এই ধরনের ইনভেসিভ প্রজাতি কি ধরনের সমস্যা ডেকে আনতে পারে তা বোঝা যায় না। তবে ছোট বাচ্চাদের বইতে পড়ানো হয়। একে জল-পিপাসু উদ্ভিদ বলা হয়। এর প্রাকৃতিক নিচ(niche) ওশিয়ানিয়ার শুষ্ক পাথুরে মরু অঞ্চল। ফলতঃ যে পরিমান জলের সংস্পর্শে এরা আসে তার সবটাই শুষে নেয়। অর্থাৎ বাংলার ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী সেখানকার প্রাকৃতিক বৃক্ষ ডেসিডুয়াস ধরণের, যারা জলের রেশনিং করে। এ বৃক্ষ তেমন নয়। নয় বলেই বড় মাত্রায় এর রোপণ জলস্তরের উপর প্রভাব ফেলে। জলস্তর নামিয়ে দেয়। বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকে জলস্তর নেমে যাওয়ার একটি বড় কারণ এই গাছ।
  • এই গাছের সঙ্গে কোন প্রাকৃতিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয় না কোন স্থানীয় জীব। গাছে বাসা বাঁধে না পাখিরাও।  ফলে এ বাস্তুতন্ত্রে ভয়েড বা ডেড স্পেস তৈরী করে।
  • এই গাছের নীচের মাটি এত শুষ্ক হয়ে যায় যে কোন ডেসিডুয়াস বৃক্ষ জন্মালেও তা বড় হতে পারে না।

কেবল মাত্র ইউক্যালিপটাস তেল, পেপার মিল ও টিম্বারের জন্য এর বাড়বাড়ন্ত ঘটিয়েছেন সরকার বাহাদুর। আর তাতে এনজিও-গুলিই হয়েছে মাধ্যম। তাই অনুরোধ দয়া করে সে সমস্ত অ্যান্টি গ্রিন এনজিওর দলে নাম লেখাবেন না। যে পরিমান পরিশ্রম করছেন তার সবটাই মাটি হয়ে যাবে। নিজেদের পরিশ্রমের মূল্য বুঝে ইউক্যালিপটাস লাগানোর ইচ্ছেকে পালটে ফেলে নিম, কাঁঠাল, আমলকী ইত্যাদি দেশীয় গাছ লাগান।

Promotion