মরসুমী ফুল

বসন্ত এঁকে যাক বদলানোর স্বপ্ন দেখা পৃথিবী

চিত্র ঋণ – শান্তনু মালিক

গাছের আগায় কখনও লাল কখনও নীলচে কখনও বা গোলাপি পাতা। কান পাতলেই কোকিলের কূজন আর অকারণেই সবকিছু ভালো লাগা জানান দিচ্ছে বসন্ত এসে গিয়েছে। রাত পোহালেই অফিসিয়ালি নাচে গানে রঙে রঙে বরণ করে নেওয়া হবে ঋতুরাজ বসন্তকে। তার প্রস্তুতি পর্ব এখন তুঙ্গে। ফিরে ফিরে আসছে বসন্তের গান- “আজি দখিন দুয়ার” অথবা “বসন্ত এসে গেছে”।

পাড়ায় পাড়ায় বেলুন, পিচকারি, রঙ, নানা ধরনের মুখোশ নিয়ে সেজে ওঠার জন্য তৈরি খুদেরা। সবচেয়ে পুরনো জরাজীর্ণ জামাটার কদর এই দু’দিন খুব বেশি। ওই জামাটিই আবার কোনো কেবলের তারে বা কোনো গাছের ডালে বসন্ত বরণের স্মৃতি বহন করবে। ইতিমধ্যেই স্কুল-কলেজে থেকে আবির মেখে বাড়ি ফিরেছে পড়ুয়ারা। হলুদ শাড়ি, কাজল চোখ, ভ্রু-যুগলের মাঝে রঙিন বিন্দু আর পাঞ্জাবীতে লেগে থাকা তির্যক আবির আরও একটু আসকারা দিচ্ছে উৎসবের মেজাজকে। ন্যাড়া পোড়ানোর গগনচুম্বী আগুন, ছুঁতে চাইলো চাঁদকে। সমস্বরে বলে উঠলো সবাই, “আজ আমাদের ন্যাড়া পোড়া/ কাল আমাদের দোল…”। যতক্ষণ না শেষ পাতাটাও পুড়ে ছাই হয়ে যায় অপলকে চেয়ে থাকলো সবাই। আর অনেকেই হয়তো প্রার্থনা করবেন এই আগুনেই পুড়ে শেষ হোক নিউজিল্যান্ডের শোক। এই আগুনের মৃদু উষ্ণতায় আপনজন হারানো মানুষগুলো ফিরে পাক স্নেহ-ভালোবাসার পরশ। এই আগুন বার্তা হোক শুধু যুদ্ধ বিরতির নয় এক ধ্রুব শান্তির। আমাদের দোল রঙিন হোক নিষ্পাপ মানুষের রক্তে নয়, আবিরে আর ভালোবাসায়।

একদিকে সাম্রাজ্যবাদীদের পক্ষ, শাসকের পক্ষ, আধিপত্য কায়েমের পক্ষ। উল্টোদিকে সাধারন মানুষের পক্ষ হল স্বজন হারানোর পক্ষ, ক্ষমতা-অতিমুনাফার ‘গোষ্ঠিদ্বন্দ্বে’ শিকার হওয়া পক্ষ, রক্তে স্নান করে যাওয়া পক্ষ। আজ বসন্তে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় দিশাহারা পশ্চিমবঙ্গের এসএসসির চাকরিপ্রার্থীরা। একই পরিস্থিতি মালদা জিকেসিআইটির পড়ুয়াদেরও। ভারতের চল্লিশটি পরিবার পুলওয়ামায় হারিয়েছেন তাদের প্রিয় আপনজনকে। আমাদের প্রার্থনা রঙ মুছে যাওয়া এই মানুষদের জীবন পাশে থাকার আবিরে অন্ততঃ কিছুটা রঙিন হোক। রঙ আমরা নিশ্চয়ই খেলব। কিন্তু অঙ্গীকার থাকুক ২০১৯-এর বসন্তে বদলানোর স্বপ্ন দেখুক পৃথিবী। রক্তের হোলিকে বিসর্জন দিয়ে সকলে মানবতার রঙিন উৎসবে মেতে উঠুক। এক্সক্লুসিভ অধিরথ গণমাধ্যমের তরফে সকলকে জানাই ‘শুভ বসন্ত’।

Promotion