Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
টোল উপাখ্যান - Exclusive Adhirath
Editorial

টোল উপাখ্যান

‘টোল’ শব্দটি কানে শুনলেই ভেসে ওঠে আজকাল বড় সেতুগুলোতে টোল ট্যাক্সের কথা খামোখা এর বাইরে খুব একটা ভাবি না আমরা আর এর থেকেই নিন্দুকদের সরল সিদ্ধান্ত বাঙ্গালী অলস এবং ইতিহাস বিমুখ চলুন, এই বদনাম ঘোচাতে একটু ফিরে যাওয়া যাক অতীতে, যখন বঙ্গভূমে টোল’ শব্দটির অবস্থান ছিল তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থার হৃদয় সিংহাসনে রবীন্দ্রনাথ তারশিক্ষাগ্রন্থেরশিক্ষা সমস্যাপ্রবন্ধে বলেছেন, “এই টোলের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করিলেও দেখা যাইবে চতুষ্পাঠীতে কেবল মাত্র পুঁথির পড়াটাই সবচেয়ে বড় জিনিস নয়, সেখানে চারিদিকেই অধ্যয়ন অধ্যাপনার হাওয়া বইতেছে গুরু নিজেও পড়া লইয়াই আছেনশুধু তাই নয়, সেখানে জীবনযাত্রা নিতান্ত সাদাসিধা, বৈষয়িকতা, বিলাসিতা মনকে টানা ছেঁড়া করিতে পারে না, সুতরাং শিক্ষাটা একেবারে স্বভাবের সঙ্গে মিশ খাইবার সময় সুবিধা পায়কিন্তু এই স্মার্ট শতাব্দীতে রবি ঠাকুর বেঁচে থাকলে হয়ত চাক্ষুষ করে যেতেন তার গর্বের শিক্ষায়তনের ক্রমশঃ তার দুঃস্বপের অচলায়তনে পরিণত হওয়ার ক্রমবিবর্তন

বর্তমানে কলকাতায় সরকারী অনুদানপ্রাপ্ত টোলের সংখ্যা ৩২ টি। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনতম টোলটির অবস্থান উত্তর কলকাতার বেনিয়াটোলাতে, যেটি প্রায় মৃতপ্রায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেল এটির ছাত্রসংখ্যা ২০ জন এবং শুধুমাত্র ১ জন পন্ডিত মাসে ২ বার অধ্যাপনা করেন।

পরবর্তী গন্তব্য, হাতিবাগানের প্রাচীন হাতিবাগান টোল মহাকালী আশ্রম। দায়িত্বে রয়েছেন গৌতম ভট্টাচার্য ও পরেশনাথ ভট্টাচার্য। পুজোর সাথে জ্যোতিষ গণনাও হয়। ঠিক পাশেই ‘প্রাচীন হাতিবাগান টোল বগলা মন্দির দুর্গা মন্দির’ বয়স নয় নয় করে দেড়শো বছরেরও বেশি। এটিতে অধ্যাপনা করেন শুভজিৎ ভট্টাচার্য। কেউ শেখে জ্যোতিষ তো কেউ শেখে সংস্কৃত। এই টোলটি প্রাণবন্ত, ২০ জনেরও বেশি ছাত্র। বেতন মোটামুটি যে কোনও বাংলা মাধ্যম স্কুলকে অনায়াসে টেক্কা দেবে। প্রতি ৬ মাসে ২৫০০ টাকা গুনতে হয় পড়ুয়াকে।

সবশেষে এসে পৌঁছালাম সীতারাম বৈদিক মহাবিদ্যালয়ে, যেটির অবস্থান ডানলপে। এই টোলটির অধ্যক্ষ ৩ বার রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে ভূষিত রামরঞ্জন ভট্টাচার্য ওরফে গোপাল পন্ডিত। তার সাথে কথা প্রসঙ্গে জানা গেল এটির ছাত্রসংখ্যা ৩০ এর বেশি এবং কর্মী ও অধ্যাপকের সংখ্যা মোট ১০। এছাড়াও বহিরাগত ছাত্র প্রায় ১০০ জন। এতো গেল তথ্য সম্বলিত হিসাবনিকেশ। এবার আসা যাক পাঠ্যসূচীর কথায়। মূলতঃ এই টোলগুলির পাঠ্যসূচী কম বেশি একই। টোল পাঠ্যক্রমে আলোকপাত করা হয়েছে বেদের ওপর। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে ব্যাকরণ, প্রমিতি, কাব্য, স্মৃতি, বৈশেষিক, দর্শন, মীমাংসা, ন্যায় ইত্যাদি।

এখানকারই এক আবাসিক ছাত্র হরিপ্রসাদ গোস্বামীর থেকে জানতে পারলাম, সব মিলিয়ে ৬ বছরের টোলজীবন বড়ই নিস্তরঙ্গ ও একঘেয়ে এবং মর্মান্তিকও বটে। আবাসিকরা প্রত্যেকেই নিরামিষাশী এবং তাদের একমাত্র পোষাক হল ধুতির সাথে পাঞ্জাবী ও উত্তরীয়। তাদের এযাবত শিক্ষাজীবনে একমাত্র সুখস্মৃতি হল শিক্ষাঙ্গণটির প্রতিষ্ঠাতা সীতারাম দাস ওঙ্কারনাথের জন্মতিথির অনুষ্ঠানে আসা ভক্তদের প্রসাদ বিতরণ। বলা বাহুল্য, এখানে ‘বিনোদন’ কথাটির কোনও রকম অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ।

বাস্তব চেতনা এবং আধুনিকতার আলো থেকে হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে এই সংস্কৃত টোলগুলি। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের দফতরে নাম তুলতে গেলে টোল উক্তীর্ণদের সার্টিফিকেট গ্রাহ্য হয় না। চাকুরি তো দূরস্থান, এমনকি গবেষণারও বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। অতীত গৌরবের অক্সিজেন বুকে নিয়েও এই আধুনিক সময়ে চতুষ্পাঠীগুলির অস্তিত্ব ইতিমধ্যেই অবলুপ্তির পথে যাত্রা শুরু করে দিয়েছে। অথচ আধুনিকতা আর বাস্তবতাকে সঙ্গী করে এই টোলশিক্ষার পরম্পরা কি পারত না অতীতকে সঙ্গে নিয়ে এক নতুন জীবনবোধের পথ প্রদর্শিকা হতে??