মরসুমী ফুল

চৈত্র সংক্রান্তিতে বাংলা জুড়ে পালিত হল চড়ক-গাজন

লিখেছেন – রাকেশ সরকার

“আমরা দুটি ভাই শিবের গাজন গাই, ঠাকমা গেছে গয়া কাশী ডুগডুগি বাজাই”। সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমরা সবাই এই বহুল প্রচলিত ছড়াটির সঙ্গে পরিচিত। বাঙালির বারোমাসের তেরো পার্বণ। আর এই গাজন উৎসব তার মধ্যে অন্যতম। চৈত্র মাসে সন্ন্যাসী ও শিবভক্তদের দ্বারা এই উৎসব পালিত হয়। গাজনের অবিচ্ছেদ্য অংশ নীলপুজো। একটি চড়ক গাছে ভগবান শিবের রূপো খোদাই করা থাকে। সারাবছর চড়ক গাছটিকে নদীতে রাখা হয়। সন্ন্যাসী ও শিবভক্তদের বিশ্বাস চড়ক গাছটি সারা বছর নদী দিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং চৈত্র মাসে ঢাকের বাজনা শুনলে যেখানে রাখা হয়েছিল সেখানে ফিরে আসে।

 

গাজনে দেখা যায় কালী নাচ, শিব এবং পার্বতী সাজিয়ে উৎসব পালন করা হয়। গাজনের অবিচ্ছেদ্য অংশ নীলপুজো। গাজনের সমাপ্তি চৈত্র সংক্রান্তির দিন চড়ক মেলার মাধ্যমে। গাজনের সব থেকে আকর্ষণীয় বিষয় হল সন্ন্যাসীরা নিজের দেহকে বিভিন্ন ভাবে আঘাত করে বা কষ্ট দিয়ে ভগবান শিবের আরাধনা করেন।

মেলার বিশেষ আকর্ষণ একজন মানুষের পিঠে বর্শি ফুটিয়ে চরক গাছের সাহায্যে শূন্যের ওপর ঘোরানো হয়। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, নদীয়া, জলপাইগুড়ি, উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ সহ বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসব পালিত হয়।

Promotion