Edu-Tech-Trade

বাংলা বাণিজ্য পক্ষের বিজনেস বাংলা টকস উদ্যোগপতি হওয়ার, বাংলার বাজার দখলের স্বপ্ন দেখালো বাঙালিকে

১৪ সেপ্টেম্বর কলকাতার বুকে হয়ে গেল বাংলা বাণিজ্য পক্ষের দ্বিতীয় বিজনেস বাংলা টকস সেমিনার। সল্টলেক সেক্টর ফাইভে নাসকমের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে স্টার্টআপ গাইডেন্স সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন মূলতঃ বাঙালি ব্যবসায়ী এবং উদ্যোগপতিরা। বাঙালি অলস, বাঙালি ব্যবসা করতে পারে না, বাঙালির কোনও একতা নেই। এই ধরণের চলতি বক্তব্যকে মিথ্যা প্রমাণ করতে বাংলা বাণিজ্য পক্ষ গত এক বছরে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা সমর্থ হয়েছেন একটি বাঙালি ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে।

সেশনের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন বাংলা বাণিজ্য পক্ষের সম্পাদক দীপাঞ্জন অনন্যা বসু। তিনি একাধারে রাজ্ঞি ই-কমার্স পোর্টালের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও। বাংলা বাণিজ্য পক্ষ বাঙালি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কীভাবে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, সেই বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন। কীভাবে বাংলার ব্যবসায়ীরা বাংলা বাণিজ্য পক্ষের থেকে সাহায্য পেতে পারেন অথবা বাংলা বাণিজ্য পক্ষকে সাহায্য করতে পারেন? এই নিয়েও আলোচনা করেন দীপাঞ্জন। এরপর বক্তব্য রাখেন বাংলা বাণিজ্য পক্ষের সভাপতি তন্ময় নন্দী। একটি স্টার্ট আপ কীভাবে গড়ে তোলা উচিৎ? ব্যবসার সঙ্গে স্টার্ট আপের কী পার্থক্য থাকে? একজন উদ্যোগপতির সঙ্গে একজন ব্যবসায়ীর কোথায় ফারাক? এই ধরণের জরুরী বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। স্টার্ট আপ সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়ও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। 

বক্তব্য রাখেন বাংলা বাণিজ্য পক্ষের মার্কেটিং হেড ফরিদুদ্দিন মাসুদ। তিনি তাঁর আকর্ষণীয় বক্তব্যে তুলে ধরেন একটি বিজনেস প্ল্যান রাইট-আপ কীভাবে লিখতে হয়? কীভাবে নিজের ব্যবসাকে প্রোমোট করবেন এবং ব্যবসায় গ্রাহকই বা কী করে বাড়াবেন এই নিয়ে পরামর্শ দেন। মার্কেট রিসার্চ নিয়েও তিনি বলেন। শ্রোতাদের অনেকেই ফরিদুদ্দিন মাসুদকে প্রশ্ন করেন, যার উত্তরও বক্তা দেন। এভাবেই এটি একটি উপভোগ্য ইন্টার- অ্যাকটিভ সেশনে পরিণত হয়।

 


এরপর বক্তব্য রাখেন বাংলা বাণিজ্য পক্ষের আইটি হেড এবং রাজ্ঞি ই-কমার্স পোর্টালের প্রতিষ্ঠাতা সৌম্য মল্লিক। আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং কতোটা গুরুত্ব রাখে, এই নিয়ে তিনি বলেন। সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মার্কেটিং করতে হয় সেই ব্যাপারেও আলোকপাত করেন সৌম্য। কীভাবে গুগল সার্চের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্টকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আসা যাবে এই ধরণের নতুন তথ্য সমৃদ্ধ করে শ্রোতাদের। সেমিনারের অন্যতম বক্তা ফরিদউদ্দীন মাসুদ ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ’কে প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, এটি এমন একটি সেশন যেখানে অনেকেই উপকৃত হলেন এবং ভবিষ্যতেও হবেন। এই ধরণের ইভেন্ট বাংলা বাণিজ্য পক্ষ আরও আয়োজন করুন যার ফলে আগামী প্রজন্মকে বাণিজ্যমুখী করে তোলা যায়।

কথায় রয়েছে বাঙালি শুধু মস্তিস্ক দিয়েই নয়, আবেগ দিয়েও ব্যবসা করে। যখন এক গৃহবধূ এসে জানতে চান তার প্রিন্টিং ব্যবসার কীভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যায় অথবা বড়ো এমএনসির চাকরি ছেড়ে আসা দাদা লাজুক হয়ে বলেন, “ব্যবসা শুরু করেছি গাইড করে দিন”, তখনই বাংলা বাণিজ্য পক্ষের সাফল্য উপলব্ধি করা যায়। যখন ষাট বছরের বৃদ্ধ এসে বলে আমার ব্যাবসাটা কিভাবে স্কেল আপ করা যায় তোমরা বুঝে নাও অথবা যখন বাবা তার মেয়েকে হাত ধরে এনে বলে কী ব্যাবসা করা যায়? তখন মনে হয় বাঙালি আজও ব্যবসাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখতে জানে, দেখাতে জানে। তাই বাংলা বাণিজ্য পক্ষও স্বপ্ন দেখে আমাদের আগামী প্রজন্ম আর হয়তো নিরাশায় ভুগবে না। সবাই ব্যবসা করবেন এরকমটাও নয়। অনেকেই চাকরি করবেন, কিন্তু তাদের চাকরি দেবে কে? তার ব্যাবস্থা করবে বাংলার উদ্যোগপতিরাই। তাদের জন্য রয়েছে বাংলা বাণিজ্য পক্ষ। বাঙালি ব্যাবসা বিমুখ আর বাণিজ্যে বসতি লক্ষী, দুটোই বাংলা কথা। বাংলা বাণিজ্য পক্ষের নেতৃত্বে প্রথমটি ভুল প্রমাণ করে দ্বিতীয়টিকেই ধ্যানজ্ঞান করবে বাংলা।

Promotion