চুরমুর

আকাশছোঁয়া চাহিদায় ফল জগতের অন্যতম সম্পদ ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’! যার আকর্ষণে মজেন ভিনদেশীরাও

 

আহা! ঠিক টুকটুকে লাল আপেলের মত সূর্য উঠেছে আকাশে! মাঝেমধ্যেই কথাটা আমরা সবাই কম বেশি বলে থাকি। আসলে লাল রঙ আর আপেল যেন এক সমার্থক শব্দ! লাল রঙের আপেলের আকর্ষণও যে নেহাৎ কম নয়! তবে ইদানীং গ্রীন বা সবুজ আপেলের চাহিদাও বেশ তুঙ্গেই। এমনকি হলুদ রঙের আপেলের কথাও প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু কালো রঙের কোনও আপেলের সঙ্গে কি কখনও পরিচয় ঘটেছে আপনার? হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। আস্ত এক আপেল, তবে চিরাচরিত লাল বা সবুজ রঙের নয়। ঠিক কালচে বেগুনী তার রঙ। হঠাৎ দেখলে কালো বলেই ভুল হবে। আর বিদেশের মাটিতে এই কালো আপেলের চাহিদাই এখন হার মানাচ্ছে অন্য যে কোনও আপেলকে।

 

তিব্বতের পার্বত্য এলাকার কোলেই বেড়ে ওঠে এই আপেল। বিরল প্রজাতির এই আপেল স্থানীয় ভাষায় ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামেই বেশ পরিচিত। স্বাদে এ আপেল বেশ মিষ্টি। ওপরের আবরণও সাধারণ আপেলের থেকে বেশ কিছুটা পুরু। তবে ভিতরের অংশ লাল আপেলের মতোই। দিনে এখানে প্রচুর আলো এবং রোদে বেড়ে ওঠে এই ফল। আর রাতে এখানে প্রচন্ড ঠান্ডা। দিন ও রাতের উষ্ণতার তারতম্যের জন্য এই প্রজাতির আপেল একটু আলাদা হয়। দিনের বেলা সুর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবই এই ফলের রং পরিবর্তনের এক মুখ্য কারণ।

 

বিশ্বের বাজারে এই আপেলের দাম প্রায় আকাশছোঁয়া। স্বাদ ও রঙের ভিন্নতার কারণেই এর চাহিদা পিছনে ফেলেছে অন্যান্য প্রজাতির আপেলকে। তবে চাহিদা বেশি হলেও তিব্বতের বহু চাষি এখনও কিছুটা নিমরাজি হয়েই এই আপেল চাষ করেন। তার কারণ আর কিছুই না, একটি পরিণত আপেল গাছ হওয়ার জন্য সময় লাগে মোটামুটি ৮ বছর। এই দীর্ঘকালীন অপেক্ষা এবং পরিচর্চার কারণেই এই আপেল হয়ে ওঠে ফলের জগতের এক অন্যতম সম্পদ। যার আকর্ষণে মজে থাকেন ভিনদেশীরাও।

প্রতিবেদক – মৌসুমী মোদক

Promotion