EXCLUSIVE NEWS

পুরুলিয়ার জন্মদিনে উৎসব জেলা জুড়ে

 

১ নভেম্বর। আমার আপনার কাছে এর আলাদা করে গুরুত্ব হয়তো নেই। কিন্তু আপামর পুরুলিয়াবাসীর কাছে আসলে এদিন তার মাতৃভূমির জন্মদিন। হ্যাঁ, দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বরই মানভূম জেলার গর্ভ থেকে জন্ম হয় পুরুলিয়ার এবং তা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্ত হয়।

সালটি তখন ১৯১১, প্রবল আন্দোলনের চাপে শেষমেষ বঙ্গভঙ্গ রদ হল। কিন্তু মানভূম জেলাকে বাংলা থেকে কেটে নিয়ে জুড়ে দেওয়া হল বিহার-ওড়িষ্যা প্রদেশের সাথে। ভাষাতে হল সমস্যা, কারণ মাতৃভাষায় কোনো কাজই হতো না সেখানে! জেলা জুড়ে হল প্রতিবাদ, সূচনা হল ভারতের প্রথম ভাষাভিত্তিক গণ আন্দোলনের। যদিও সাফল্য অধরাই ছিল। এরপর ১৯৪৭-এ ব্রিটিশ চলে গেল ভারত ছেড়ে। ভাষাভিত্তিক প্রদেশ গঠনের দাবী উঠতে লাগল দিকে দিকে। মানভূমের বাঙালিরাও দাবী করতে লাগলেন তৎকালীন বিহার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পশ্চিমবাংলায় জুড়ে যেতে। ১৯৪৮ সাল থেকে ‘লোক সেবক সংঘ’এর উদ্যোগে আন্দোলন আরো জোরদার হল। বঙ্গভুক্তির দাবী জানিয়ে মানভূমের বাংলা ভাষাভাষী মানুষ মানভূম থেকে কলকাতা পদযাত্রা করলেন। টুসু সত্যাগ্রহ, হাল জোয়াল আন্দোলন এসবই উল্লেখযোগ্য। অবশেষে ১৯৫৬ সালে এল জয়, মানভূমের ১৬টি থানার বঙ্গভুক্তি হল। জন্ম নিল সদ্যোজাত পুরুলিয়া জেলা।

 

এই দিনেই বাংলার সংস্কৃতিতে পুরুলিয়ার অবদানকে মনে করিয়ে দিতে এবং অতুলচন্দ্র ঘোষ, বিভূতিভূষণ দাসগুপ্ত প্রমুখের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে এদিন গোটা পুরুলিয়া জুড়ে অনুষ্ঠান করবে বাংলা পক্ষ। পুরুলিয়া জেলা বাংলা পক্ষের তরফে সত্যজিৎ চ্যাটার্জী জানালেন, ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে কোনও অংশেই কম নয়  দিনটির গুরুত্ব। কারণ এটিই ভারতের প্রথম ভাষা আন্দোলন। তবে তার আক্ষেপ, পুরুলিয়ার ভাষা-সংস্কৃতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে আজও সেভাবে কদর পায় না। তাই মানুষের কাছে সেই ঐতিহ্য তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।

চিত্র ঋণ – http://www.purulia.gov.in/

Promotion