জগতের বাহার

বেহুলার বিপদ মণ্ডল চায়ের দোকানকে বানিয়েছেন এক আস্ত ছবিঘর!

 

আবহমান কাল ধরেই বাঙালির জীবনে আড্ডা আর চায়ের কাপে তর্কের তুফান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। বাঙালি মানেই আড্ডা প্রিয়। সিনেমা হোক বা খেলা, রাজনীতি কিংবা ভূত। আড্ডা দিতে ভালোবাসে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। তবে হাল-আমলে স্মার্ট ফোন এবং প্রযুক্তির দাপটে এসব কিছুই কেমন যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। চায়ের আড্ডায় হারিয়ে যাচ্ছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গল্প। হারাচ্ছে নেতাজী-ক্ষুদীরাম থেকে ইন্দিরা গান্ধী; সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক থেকে ফেলুদা-সৌমিত্র। আড্ডায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না উত্তম কুমার থেকে ৮৩’এর ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়। কিন্তু গুপ্তিপাড়ার বিপদ মন্ডল মনে প্রাণে চান চায়ের কাপে এসবের আড্ডা থেকে যাক যুগের পর যুগ। তিনি যেন কিছুতেই বাঙালিকে এসব ভুলতে দেবেন না। কিন্তু কে এই বিপদ মন্ডল?

 

হুগলির বেহুলা স্টেশনের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান চালান বছর পঁয়তাল্লিশের এক ব্যক্তি। বাইরে থেকে ছোট্ট চায়ের দোকানটা দেখে তেমন কিছু বোঝার উপায় নেই। ভেতরে ঢুকে ডানদিকে দেখা গেল চায়ের সরঞ্জাম, বয়ামে রাখা বিস্কুট আর বিপদ মন্ডলকে। কিন্তু বাঁদিকে তাকাতেই চক্ষু চড়কগাছ। কাঁচের শোকেসে রাখা ছবিগুলো দেখে বুঝতেই পারছিলাম না এটি চায়ের দোকান নাকি আস্ত এক ছবিঘর। পরিষ্কার কাঁচের শোকেসে সাজানো বিভিন্ন মনীষী থেকে বিখ্যাত সব ব্যক্তিত্বের ছবি। তালিকায় জায়গা পেয়েছেন নানা দেব-দেবী থেকে রাস্ট্র নেতা-নেত্রীরাও। এক কথায় বলাই যায়, পুরো দেওয়াল জুড়ে জায়গা করে নিয়েছে বিভিন্ন সময়ের ইতিহাসের পাতা। সেখানে একই সঙ্গে শোভা পাচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, নজরুল ইসলাম, রামমোহন, নেতাজী, মহাত্মা গান্ধী, উত্তম কুমার। রয়েছেন অটল বিহারি বাজপেয়ী, মমতা ব্যানার্জী, মিঠুন, সৌরভ গাঙ্গুলীর মতো ব্যক্তিত্বের ছবি। বিপদ বাবুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তার উদ্দেশ্যের কথা।

 

মানুষ ক্রমেই ভুলে যেতে বসেছেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের। তাই বিপদ মণ্ডল চান, এই ছবি দেখে মানুষের মনে যেন থেকে যায় তাদের অবদানের কথা। তাই শুধু চা খেতেই নয়, অভিনবত্বের স্বাদ যদি আপনার মন পেতে চায়, নির্দ্বিধায় ঘুরে যেতে পারেন বেহুলার বিপদ মণ্ডলের চায়ের দোকানে।