Editorial

মৃত্যু দিয়েই যে শিক্ষক বেঁচে থাকার শিক্ষা দিয়ে গেলেন!

“আমরা শুধু চিনেছি মানুষটাকেই,

বদলে ফেলার স্বপ্ন নিয়ে আজন্ম যারা,

প্রতিবাদ করে থাকে!”

সরকারী বিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার পর নির্ঝঞ্ঝাট এক অব্যতিক্রমী জীবন অনায়েসে কাটাতে পারতেন তিনি। কিন্তু তাহলে আর বরুণ বিশ্বাস হয়ে উঠতেন না তিনি। সুটিয়ার এই বাসিন্দা শুধু প্রতিবাদী সত্ত্বাই ছিলেন না, ছিলেন সমাজবন্ধু। সুটিয়ায় সেই সময় গণধর্ষণ একটা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছিল। তখন বরুণ সকলের হাতে লিফলেট গুঁজে গণধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানো , ধর্ষিতা মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করা এবং তাদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করা, বিভিন্ন অসুবিধা সরকারকে চিঠি মারফৎ জানানো এগুলির নেপথ্যে ছিলেন এই প্রতিবাদী যুবকই।

বাস্তবিকভাবেই সিলেবাসের বাইরে বরুণ বিশ্বাসের জীবনবোধের শিক্ষা মিত্র ইনস্টিটিউশনের ক্লাসরুমেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তবে সমস্যা কোথায় জানেন তো? রাষ্ট্র সরকারী পাঠ্যক্রমে ক্ষুদিরাম, সুভাষচন্দ্র বা সূর্য সেনের জীবনী পড়ায়। কিন্তু কেউ তাদের মতো সমাজের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াক সেটা চায় না কখনোই। এক্ষেত্রেও ঠিক তাই হল। শাসকের দালালরা গুলি করে তাকে হত্যা করলো। তবে আদর্শকে, বুকের আগুনকে বোধহয় এতো সহজে হত্যা করা যায় না। তাই আজও একজন আদর্শ শিক্ষক বলতে আপনাকেই বুঝি বরুণ বিশ্বাস!

“পৃথিবী চাইছে বদলে ফেলার মুখে,

মৃত্যুই যদি ফের

প্রতিবাদ হয়ে ওঠে!”

Promotion