EXCLUSIVE NEWS

বিজেপির ডাকা বনধে শুনশান ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল

তিনি ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বাহুবলী নেতা এবং বিজেপি সাংসদ। এহেন অর্জুন সিং খোদ আক্রান্ত হয়েছেন রবিবার। মাথায় পরেছে সাত সাতটা সেলাই। ভাঙচুর হয়েছে তার গাড়ি। ঘটনার প্রতিবাদে রবিবারই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ১২ ঘন্টার বনধ ডাকে বিজেপি।

এদিন সকাল থেকেই গোটা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে চলছে বনধ। ভোর ৬টা নাগাদ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা কাঁকিনাড়ায় রেল লাইনে বসে যায়। বেলার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও বন্ধ রয়েছে শিল্পাঞ্চলের বেশীরভাগ দোকানপাট। রাস্তায় চলছে না বাস। এমনকি নৈহাটি-চুঁচুড়ার মধ্যে ফেরি চলাচলও বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় দেখা নেই অটো-টোটো-রিক্সার। ফলতঃ সমস্যার মুখোমুখি নিত্যযাত্রীরা।

অর্জুন সিংয়ের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় বিজেপি সরাসরি ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি মনোজ বার্মার দিকে আঙুল তুলেছেন।বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, মনোজ বার্মা নিজে তাঁর মাথায় লাঠির বাড়ি মেরেছেন। পুলিশের পালটা অভিযোগ, বিজেপি সমর্থকদের ছোঁড়া ঢিলের আঘাতেই অর্জুন সিংয়ের মাথা ফেটেছে। কয়েকজন পুলিশকর্মীও গুরুতর আহত হয়েছেন ঢিলের আঘাতে। পুলিশ কমিশনার মনোজ বার্মা ওই সময় এলাকায় ছিলেন না। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই উত্তপ্ত শ্যামনগর-ভাটপাড়া-নৈহাটির বিস্তীর্ণ এলাকা।

রবিবার থেকেই বিজেপি কর্মীরা সোমবার দোকান বন্ধ রাখার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হুমকি দিতে থাকে বলে। এমনটাই অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। নৈহাটির ৫ নম্বর বিজয়নগরের স্থানীয় বাসিন্দা তথা মুদিখানার দোকানের মালিক সকালের দিকে দোকান খুলেছিলেন। কিন্তু বেলা বারোটা নাগাদ তাঁর দোকানও জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সমীর বাবু। বহু ব্যবসায়ীরই অভিযোগ, ২০১১ থেকে বহু বন্ধ ডেকেছে সিপিএম-বিজেপি। কিন্তু প্রতিবারই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বনধের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু এবার আশ্চর্যজনক ভাবেই তৃণমূলের কোনো স্থানীয় নেতা-কাউন্সিলরদের দেখা মেলে নি। পুলিশও কোনো বরাভয় দিচ্ছে না। অগত্যা দোকান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। এদিকে পুজোর দিনেই বনধ্ হওয়ায় মুখ ভার পুজো উদ্যোক্তাদের। ম্লান হয়ে গেছে গণেশ চতুর্থী উৎসবের আমেজ।

Promotion