EXCLUSIVE NEWS

শেষ হল বইমেলা, মনে রয়ে গেল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন

ভৌগোলিক মানচিত্রে দুটো দেশ ভিন্ন ভিন্ন নামে চিহ্নিত হলেও আত্মায় এক ভারত এবং বাংলাদেশ। আরও নির্দিষ্ট ভাবে বললে, পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ববঙ্গ(অধুনা বাংলাদেশ)।সংস্কৃতিগত দিক থেকে, চিন্তায় এবং মননে দুই দেশ, দুই বাংলা একে অপরের পরিপূরক, একটি বৃন্তেরই যেন দুটি কুসুম।

তাই ৪৩ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় বরাবরের মতো এবারও গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিয়েই বিরাজ করলো বাংলাদেশ। উজ্জ্বল উপস্থিতি নিয়ে রইলো তাদের প্যাভিলিয়ন। বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রকাশনা সংস্থা ‘গতিধারা’ থেকে শুরু করে ‘সন্দেশ’, ‘কথাপ্রকাশ’, ‘ভাষাচিত্র’,’ ‘অন্যধারা’, ‘বেঙ্গল পাবলিকেশন্স লি.’, ‘পাঠক সমাবেশ’, ‘পুঁথিনিলয়’, ‘অনন্যা’র মতো দেখা পাওয়া গেল বাংলাদেশের ছোট-বড় বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থার স্টল-এর।

বৈচিত্রের মাঝে ঐক্যের শহর কলকাতায় এবারের ৪৩ তম আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রতিবেশী বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নে ছিল বইয়ের বৈচিত্র্য। শেখ মুজিবর রহমান-এর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে শুরু করে চিত্রনিভা চৌধুরীর ‘রবীন্দ্রস্মৃতি’। কোথাও ছোটদের জন্য ভূতের বই তো কোথাও মিশরের ইতিহাস, গ্রিকদের দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প। আবার কোথাও কবিতা সংগ্রহ তো কোথাও আবার দেখা মিললো প্রযুক্তিবিদ্যা এবং বিজ্ঞানের বইয়ের।

রবি ঠাকুরের ‘কালান্তর’-এর পাশাপাশি পাওয়া গেল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপর লেখা বই। বইমেলার ভেতর যেন আরেকটা বইমেলা-বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন। উপচে পড়া ভিড়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত রইলো সুদৃশ্য প্রাসাদোপম প্যাভিলিয়ন। ব্যস্ত রইলেন ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রত্যেকেই। বেরোনোর সময় এক্সিট গেটে যোগাযোগ তথ্যাদি সহ মন্তব্যের বই। সানন্দে সেখানে নিজেদের যাবতীয় তথ্য সহ মন্তব্য লিখলেন মানুষ। সবমিলিয়ে সাহিত্য এবং ভালোবাসা আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে ভীষণভাবে আবারও আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে রইলো বাংলাদেশ। সাহিত্যের এই মিলন-মেলায় মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল দুই বাংলা।

Promotion