EXCLUSIVE NEWS

বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রয়োজনীয়তা ও বাংলা পক্ষের ভূমিকা নিয়ে অনুষ্ঠান মহানগরীর বুকে

রবিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার সূর্য সেন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বাংলা পক্ষের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলকাতা বাংলা পক্ষের ৯৫ পল্লীর সদস্যদের উদ্যোগেই আয়োজিত হয় এই কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন কীভাবে আজকের ছোট ছোট বাঙালি শিশুদের মধ্যে জন্মাচ্ছে হীনমন্যতা। এর ফলে তারাও চেষ্টা করছে বাংলা নয় হিন্দিতে কথা বলতে। তাদেরকে বোঝানো হচ্ছে, ইংরেজিতে কথা বলতে না পারলেও হিন্দিতে কথা বলে সেই ঘাটতি পূরণ করা যায়। এই পটভূমিকাতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পুনর্জাগরণকে সাধুবাদ জানান বাংলার এই রত্ন। তার ভাষায়, “বাঙালির অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলন তখনই সফল হবে, যখন আমাদের ভেতরে বাংলার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার অস্মিতা জেগে উঠবে।”
বাংলা পক্ষের তরফে বক্তব্য রাখেন কৌশিক মাইতি এবং অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। কৌশিক তার বক্তব্যে তুলে ধরেন কীভাবে শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে এক বহুমুখী বঞ্চনার শিকার বাঙালি ছেলে মেয়েরা। মেডিকেলে ডোমিসাইল বি কোটার মাধ্যমে রাজ্য বোর্ডের সংরক্ষিত আসনগুলি খেয়ে নিচ্ছে বহিরাগত ছেলেমেয়েরা। সাম্প্রতিক কালে সস্তা সুন্দর কোম্পানির বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কথা দর্শকদের মনে করিয়ে দিয়ে কৌশিক জানান, এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাঙালি বিদ্বেষী শক্তিগুলিকে বাংলার মাটিতে তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেন কৌশিক। বাংলার চাকরি, ব্যবসা, পুঁজিতে বাঙালির অধিকার পুনরুদ্ধারের শপথ নিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
অন্যদিকে গর্গ চট্টোপাধ্যায় বক্তব্য শুরু করেন হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের নারী বিরোধী চরিত্রের মুখোশ উন্মোচন করে। তিনি তুলে ধরেন কীভাবে বাঙালি নারীদের ভোগ্যবস্তুতে পরিণত করেছে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ। কীভাবে একদা বঙ্গমাতার আরাধনায় রচিত বন্দেমাতরম সঙ্গীতকে তথাকথিত ভারত মাতার আরাধনার এক হিন্দি সঙ্গীতে পরিণত করা হয়েছে। হিন্দু ব্রাহ্মণের পবিত্র মন্ত্র গায়ত্রীকে হিন্দি উচ্চারণের মাধ্যমে উত্তর ভারতীয় ভাব দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগও তিনি তোলেন। তার কথায়, “বাঙালির অধিকারের লড়াইয়ে সর্ব প্রথম ডাক দিয়েছে বাংলা পক্ষ। যদিও এই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব প্রত্যেক বাঙালির।” এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলা পক্ষের সহযোদ্ধা প্রবাল চক্রবর্তী এবং সুলগ্না দাশগুপ্ত প্রমুখ। কুনাল, বিয়াস, রাজশেখর এবং কৌশিকের সুমধুর সংগীত পরিবেশন মুগ্ধ করে দর্শকদের। “ধনধান্য পুষ্পে ভরা” গানটিতে সমবেতভাবে গলা মিলিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

Promotion