Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
বঙ্গে বৈশাখে বাংলাকে বুকে সংস্কৃতিকে বুকে ধরার অঙ্গীকার নিল বাংলা শিল্পী পক্ষ - Exclusive Adhirath
Official Media Partner

বঙ্গে বৈশাখে বাংলাকে বুকে সংস্কৃতিকে বুকে ধরার অঙ্গীকার নিল বাংলা শিল্পী পক্ষ

চিত্র ঋণ – শুভব্রত

যত দিন যাচ্ছে, আমরা ক্রমশঃ দূরে ঠেলে দিচ্ছি বাংলা সংস্কৃতিকে, বাংলায় কথা না বলাটাই বেশ কিছু ক্ষেত্রে হয়ে উঠছে আমাদের স্ট্যাটাস সিম্বল। সাম্প্রতিক সময়ের বুকে দাঁড়িয়ে বাংলা গানের পরিসর কমছে। বাংলা সংস্কৃতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের থাবায় আজ রক্তাক্ত। এই পরিস্থিতিতে বাংলার সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব পয়লা বৈশাখকে ভিন্ন স্বাদে উদযাপন করলো বাংলা শিল্পী পক্ষ। কলকাতার আশুতোষ হলে বাংলা বছরের পয়লা বিকেলে বসলো চাঁদের হাট। প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সঙ্গীতশিল্পী সিধু, পটা থেকে শুরু করে প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী পূরবী মুখোপাধ্যায়। প্রতুল মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দুঁদে সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব‍্যাপারী সকলেই ছিলেন এই উৎসবের শরিক।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন প্রবাল চক্রবর্তী এবং পঞ্চাদ্রি কর্মকার। প্রথমেই শিশু শিল্পী জয় দাসের সুন্দর গান পরিবেশন জমিয়ে তুললো আসর।

সংবর্ধনা জানানো হল সঙ্গীতশিল্পী তথা লেখক প্রতুল মুখোপাধ্যায়কে। বাঙালি চেতনা নিয়ে দু’চার কথা বলার পাশাপাশি নিজস্ব ভঙ্গীতে গান গেয়ে তিনি মাতিয়ে দিলেন বঙ্গে বৈশাখ।

বাংলা পক্ষের যোদ্ধা গর্গ চ্যাটার্জী বোঝালেন, ঠিক কীভাবে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের দাঁত-নখের সামনে এই মুহূর্তে অসহায় বাংলা। কীভাবে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো উচিৎ তাও উঠে আসে তার কথায়। এরপর বাংলা শিল্পী পক্ষের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয় প্রখ্যাত বাংলা ব্যান্ড ক্যাকটাসের গায়ক সিধুকে। তিনি তার বক্তব্যে জানালেন কেন এফএম চ্যানেলগুলি নতুন বাংলা স্বাধীন গান মানুষকে শোনাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতি থেকে স্বাধীন সঙ্গীতশিল্পীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিনি উৎসাহ দিলেন। সেই সঙ্গে এরকম একটি প্রয়াসের জন্য বাংলা শিল্পী পক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। নাহ, দর্শকদের হতাশ করলেন না তিনিও। ‘বধূ রে’ গেয়ে তিনি ছড়িয়ে গেলেন মুগ্ধতার রেশ।

একান্ত আলাপচারিতায় সিধু জানালেন, এফএমের মতো প্ল্যাটফর্মগুলি স্বাধীন বাংলা গানের প্রতি যতোই বিমাতৃসুলভ আচরণ করুক, আমাদের হাতে কিন্তু ইন্টারনেট চলে এসেছে। কাজেই তাই কোনোরকম রাজনীতি করে অথবা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে কেউ কাউকে দমিয়ে দিতে পারবে না। ইন্টারনেটকে সঙ্গে নিয়ে বাংলা বেসিক গানের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে বলে আমি মনে করছি। এক্ষুণি সেই যাত্রার কোনও ফলাফল আমরা দেখতে না পেলেও, আগামী কয়েক বছরে তা আমাদের সামনে চলে আসবে। আমরা তাকে প্রশ্ন করি, বাংলা গান কি কোথাও গিয়ে কর্পোরেটের কাছে মাথা নত করছে? তার উত্তরে সিধু জানান, শিল্পী যেমন স্পনসর খোঁজেন, ঠিক তেমনি স্পনসরও কোথাও গিয়ে অর্থ লগ্নির সেই জায়গাটি খোঁজেন। সব স্পনসরই যে তেলা মাথায় তেল দেন এরকমটিও নয়। অনেকেই নতুনদের নিয়ে কাজ করছেন। তাই ভালো কাজ করলে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

একক সঙ্গীত পরিবেশন করলেন প্রিয়াঙ্কা, বিক্রম, সায়ন্ত, অর্ক, মিঠু মণ্ডল প্রমুখরা। এদিন আবৃত্তি পরিবেশন করলেন সিলভিয়া সরকার, সুমনা সরকার এবং তন্বী দাস।

একে একে মঞ্চে সংবর্ধনা পেলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শেখ ইয়াসিন পাঠান, সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী, নন্দিতা আচার্য্য, সাতের দশকের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রঞ্জন প্রসাদ, সফল বাঙালি উদ্যোগপতি বল্লরাম মল্লিক এবং সন্সের কর্ণধার, সাংবাদিক জয়ন্ত চক্রবর্তী। প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী পূরবী মুখোপাধ্যায় সংবর্ধনা নেওয়ার পর সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তার সুললিত কণ্ঠ ছুঁয়ে যায় শ্রোতাদের। মঞ্চে সংবর্ধিত হন বিশিষ্ট সাহিত্যিক নন্দিতা আচার্য্য এবং সঙ্গীতশিল্পী রাজ‍্যশ্রী বন্দোপাধ্যায়। এছাড়াও বাংলার আরেক স্বাধীন সঙ্গীতশিল্পী পটাকে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। বাংলা সংস্কৃতির অবক্ষয় নিয়ে তিনিও বেশ কিছু প্রাসঙ্গিক কথা বলেন।

বাংলা স্লোগানে লেখা টি-শার্ট, বাংলার ঐতিহ্যমণ্ডিত নানার শিল্পসামগ্রী এবং বাংলার নিজস্ব চকোলেট নিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চের বাইরে হাজির ছিলেন ক্রেতারা।

বঙ্গে বৈশাখের সন্ধ্যায় নৃত্য পরিবেশন করলেন বিপাশা দে এবং দীপান্বিতা গাঙ্গুলি। তারপরেই মঞ্চে অবতীর্ণ হলেন বাংলা গানের দোল ‘ফোক আস’। তাদের মঞ্চ কাঁপানোর পরেই বাংলা ব্যান্ড ‘ফ্রেন্ডস’-এর বাংলা গানের ডালি সাজিয়ে তোলে মঞ্চ। এভাবেই বাংলার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে শেষ হল অনুষ্ঠান।

Promotion