কাটাকুটি

বিহঙ্গের জন্মদিনে দর্শকরা রিটার্ন গিফট হিসেবে পেলেন ভারতবর্ষের খেলাঘর

২৯ সেপ্টেম্বর নৈহাটির ঐকতান মঞ্চে দুটি নাটকের মঞ্চস্থ হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণতা পেল বিহঙ্গ নাট্যদলের পাঁচ বছরের পথ চলা। দর্শকদের মগজে ধাক্কা দিয়ে গেল ‘খেলাঘর’ এবং ‘ভারতবর্ষ’ নাটক দুটি।

রিচার্ড স্কটের রচনা অবলম্বনে ‘খেলাঘর’ নাটকটির নির্দেশনা করেছেন সৌপ্তিক। সম্পাদনা এবং নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন সৌমিক। ইপ্সিতা এবং সর্বজিতের অনবদ্য অভিনয়ের দৌলতে প্রায় ৬০ মিনিটের নাটক দেখতে গিয়ে ১ মিনিটও বোর হতে হয়নি। শেয়ার মার্কেটে কাজ করা রোদ্দুর এবং বাংলার অধ্যাপিকা মেঘ তিন বছর ধরে লিভ-ইন করছেন। হঠাৎ এই সম্পর্কের মধ্যে প্রবেশ করে বৃষ্টি। এখন মেঘ, বৃষ্টি এবং রোদ্দুর তো কখনোই একই ছাদের তলায় থাকতে পারে না। মেঘ রোদ্দুরের সঙ্গে এক বিছানায় শুয়েও আবিষ্কার করে তাদের মাঝে আসলে ‘এক মহাদেশ দূরত্ব’।  কিন্তু একদিন বে-আব্রু হয়ে পড়ে নিজের ভালোবাসাকে ঠকানোর এই উৎসব। এমন একটা সময় দাঁড়িয়ে আমরা যেখানে মাত্র দু’মিনিটে ম্যাগি তৈরি হয়ে যায় এবং পাঁচ মিনিটও লাগে না একটি সম্পর্ক ভাঙতে। সেখানে সম্পর্ক কীভাবে নিজের আখের গোছানোর খেলায় পরিণত হচ্ছে তারই প্রাণবন্ত দলিল হয়ে থাকলো নাটকটি। আলোর বারংবার জ্বলে ওঠা এবং নিভে যাওয়া যেন অনেক কথা বলে গেল।

এরপর স্বাভাবিকতার আবির মাখানো এক অসাধারণ ভাবনার সাক্ষী থাকলো মধ্যান্তর। গানের মধ্য দিয়ে বিহঙ্গ ব্যাক্ত করলো ‘ভারতবর্ষ’ নাটকের প্রাক-কথন। সৌপ্তিক এই নাটকের নির্দেশক ও রচয়িতা। সহ-নির্দেশনা ও ক্যোরিওগ্রাফির দায়িত্বে ইপ্সিতা। সঙ্গীতে ছিলেন অয়ন এবং রীতেশ এবং আলোর দায়িত্বে সৌমিক। এক চা-ওয়ালার গল্প বলা দিয়েই ক্রিজে ব্যাট করতে নামলেন ‘ভারতবর্ষ’ নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। বক্তব্যের মাধ্যম হিসেবে ছ্যাবলামির প্রয়োগ করা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেই ছ্যাবলামিই যখন বাস্তবের সমস্যা, দেশকে ধর্মের নামে ভাঙার গল্পকে সামনে তুলে আনে, তখন নেহাৎ সেটি ছ্যাবলামি থাকে না। হয়ে ওঠে বক্তব্য প্রকাশের শিল্প। নাটকে এক ঠাকুমা মারা যাওয়ার পরেই তার ধর্ম পরিচয় নিয়ে তৈরি হয় টানা-পোড়েন। আর এই সাম্প্রদায়িক উস্কানি কখনোই কোনও সাধারণ মানুষ দেয় না। এটি সম্পূর্ণভাবেই ধর্মীয় মাতাজি বা বাবাজিদেরই কীর্তি।

তাই সাজিয়াকে রাজু ভালবাসলে সেটাকে পাপ বলা হয়। ধর্মের বলি হতে হয় সাজিয়া এবং সেই চা-ওয়ালাকে। ‘ভারতবর্ষ’ নাটকে নজর কেড়েছে সঙ্গীত এবং নৃত্য। সত্যিটাই উঠে এসেছে গানের লেখায়। “রাজার ওপর রাজা আছে, বাপের ওপর বাপ; যার হাতে সব টাকা আছে সেই কেউটে সাপ।” তাই তো নাটকের শেষ সংলাপ “জয় শ্রী আল্লাহ্‌ সালাম আকা রাম” আরেকবার ভাবিয়ে গেল সবাইকে।

এভাবেই নাট্য-ভাবনার মানচিত্র পেরোনো বিহঙ্গ উদযাপন করলো তাঁর পাঁচ বছরের জন্মদিন। অনুষ্ঠান শেষে বিহঙ্গ দর্শকের কাছে ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে, সমালোচনা করে তাদের পাশে থাকার আবেদনও জানালেন।

Promotion