মরসুমী ফুল

আসকে পিঠেকে কেন দেবেন আস্কারা?

 

দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম উৎসব পৌষ-পার্বণ। শুরু হবে একে একে দুধ পিঠে, সেদ্ধপিঠে, গুড় পিঠে, সরু চাকলি, পাটিসাপটাদের জোরদার লড়াই। তবে এই দশ ইঞ্চির পেটের দৌড়ে আজকাল আর ওর দেখা পাওয়া যায় না। লড়াইয়ে নামতে ভয় পায়, গোহারান হেরে যাবার ভয়ে। তাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। কার কথা বলছি বলুন তো? আজ্ঞে হ্যাঁ, আসকে পিঠে। যার দশা আজ খানিকটা এরকমই।এলপিজি গ্যাসে কি আর আসকে হয়? না, ইন্ডাকশনে হয়? তাহলে তো তেতলার ফ্ল্যাটে কাঠের উনুন বানাতে হয়!

 

তেমন কিছু না, বিশাল কিছু পরিশ্রমও নয়। ঢেঁকি ছাঁটা চাল বা শিলনোড়ায় বাটা চাল, নুন আর জল। এই সামান্য কিছু জিনিসকে মিশ্রণ বানিয়ে গোলার মত তৈরি করতে হবে। বাজার থেকে আসকে সরা কিনতে হবে। কাঠের উনুনে আসকে সরা বসিয়ে ওই গোলাকে পরিমাণ মতো দিয়ে চাপা দিতে হবে। হাল্কা গরম আঁচে ওটি পিঠের আকৃতি নেবে। পিঠে হওয়ার পর নিচের অংশটি কাঠের ধোঁয়ায় কালো হয়ে যায়। তাই কিছুক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ব্যাস, ঠান্ডা হলে যে কোন গুড় দিয়ে পরিবেশন করা যাবে।

 

যখন মা-ঠাকুমারা আসকে পিঠে বানাতেন তখন স্বাদ না থাকলেও ভালোবাসা ছিল। কিন্তু আজ আর নেই আসকে, তাই আর সেই আদরবাসাও উধাও। গুড় দিয়ে আসকের স্বাদ খুব ভাল ছিল না কখনোই। নতুন যুগে তাল মেলাতে গিয়ে আসকে বনেছে বলদা পিঠে। আমরা নবীনরা এগিয়ে গিয়ে ছপাৎ করে সুন্দরকে আঁকড়ে ধরি। কিন্তু এই আঁকড়ে ধরায় কিছুটা ভুল হয়েছে। না অম্বল, না পেটের সমস্যা বা বদহজম। কোনও শারীরিক অসুস্থতাই আনে না এই পিঠে। অথচ, মরার ওষুধ গলায় বেঁধে অন্য পিঠে ভক্ষণে সাধ জাগে আমাদের। যাই হোক, আসকের ওপর ভরসা আছে। নতুন প্রভাতের গান সে নিয়েই আসবে, তা নিশ্চিত। সুগার, প্রেসার, থাইরয়েড, ক্যান্সারের দেশে ডাক্তারের বারণে অনেক পিঠে বন্ধ হলেও আসকের ছাড় রয়েছে। তার গায়ে যে আসলে নেই কোনও শরীর খারাপ করার অভিযোগের কলঙ্ক। অন্য পিঠে বারণের তালিকায় পড়লে ছোটাছুটি, কাড়াকাড়ি পড়ে যাবে এই আসকে পিঠেকে নিয়ে। বাড়বে তার আত্মসম্মান ও আত্মশ্লাঘা, ঘুচবে কলঙ্ক। মুক্ত হয়ে পাতে পড়বে বড় বড় এক একটা আসকে। আপাতত সেই দিনেরই অপেক্ষায়…

Promotion