Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
অরুন্ধতী - "লোকসঙ্গীত জীবনের মোড়গুলোকে চিনতে শিখিয়েছে" - Exclusive Adhirath
মেঘে ঢাকা তারা

অরুন্ধতী – “লোকসঙ্গীত জীবনের মোড়গুলোকে চিনতে শিখিয়েছে”

আপনার সঙ্গীত যাত্রার শুরুটা কবে কীভাবে? আপনার গুরু কারা ছিলেন?

হাতে-কলমে সঙ্গীত শেখা শুরু হয় পাঁচ বছর বয়েসে। গান শেখা ও শোনার আগ্রহ ছোট থেকেই ছিল। এই ব্যাপারে পরিবারের সমর্থনও আমি পেয়েছি। প্রথম আমি সঙ্গীত শিখি লিলি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। বর্তমানে আমি রাজকুমার রায়ের কাছে গান শিখছি।

লোকসঙ্গীত ঘরানাকেই বেছে নেওয়ার কারণ কী?

সব ধরণের গান গাইলেও মূলতঃ প্রাধান্য দিই লোকসঙ্গীতকেই। তবে শুরু থেকেই যে লোকসঙ্গীতই গাইবো এভাবে চলার পথ সাজাইনি। ক্রমশঃ গাইতে গাইতে লোকসঙ্গীতের প্রতি একটা ভালোবাসা জন্মায়। বাংলার মাটির প্রতি, প্রকৃতির প্রতি একটা টান জন্মায়। আপাততঃ তাই বাংলা লোকসঙ্গীত নিয়েই কাজ করছি।

গানের জগতে এখনও পর্যন্ত কী কী উল্লেখযোগ্য কাজ আপনি করেছেন?

ক্লাস সিক্সে পড়াকালীন সঙ্গীতের একটি ট্যালেন্ট হান্ট শো-তে তৃতীয় হই। সেখানে উপহার হিসেবে আমার গান সংশ্লিষ্ট চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তৈরি অ্যালবামে জায়গা পায়। এরপর ২০১১ সালে রাজ্য সঙ্গীত একাডেমী থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীতে সার্টিফিকেট পাই। ২০১৩-তে ধূম অডিও থেকে একটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের একটি সম্মিলিত অ্যালবাম মুক্তি পায়, যেটিতে আমিও গেয়েছিলাম। ২০১৫ সালে আকাশবাণীর যুগবাণীতে লোকসঙ্গীতের স্থায়ী শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হই। ওই বছরই রাজ্য সঙ্গীত একাডেমী থেকে লোকসঙ্গীতে প্রথম স্থান অর্জন করি। তাছাড়া আমি সঙ্গীত মেলাতেও অনুষ্ঠান করে থাকি। দূরদর্শন সহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলেও আমাকে দেখা গিয়েছে। অতি সম্প্রতি একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে নির্বাচিত হয়েছি, খুব শীঘ্রই আপনারা দেখতে পাবেন টিভির পর্দায়।

অনেক সঙ্গীতশিল্পীরই মুম্বই যাওয়ার স্বপ্ন থাকে। আপনারও কি সেরকম কিছু স্বপ্ন রয়েছে?

স্বপ্ন যে নেই, এ কথা একেবারেই বলবো না। স্বপ্নকে ছোঁয়ার চেষ্টাও আমি করবো নিশ্চয়ই। তবে বাংলার লোকসঙ্গীতকে নিয়েই আমি এগোতে চাই। সেটা মুম্বই হোক বা বিশ্বের যে কোনও জায়গাই হোক।

লোকসঙ্গীতে আমরা ‘বাউল’ শব্দটি বহুবার শুনে থাকি। ‘বাউল’ কি একটি ধারণা?

হ্যাঁ, লোকসঙ্গীতে ‘বাউল’ কথাটির বহুল প্রচলন রয়েছে। ‘বাউল’ কোনও সুর নয়, এটি হল একটি দর্শন, একটি ভাবধারা। ‘বাউল’ একটি গৌণ ধর্ম সম্প্রদায়। বাউল মানেই যে সেটা বাউলের মতোই হবে এটাও নয়। এটা এমন একটি সহজিয়া সাধনা যে সেটি ভাওয়াইয়া হতে পারে অথবা কীর্তনও হতে পারে।

আপনি তো গান শেখানও। গান শেখাতে গিয়ে আপনার কী উপলব্ধি?

শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকেই বাধ্য এবং মনোযোগ সহকারে গান শেখে। শুধু ম্যাডামের কাছে আসবো, ক্লাস করবো, চলে যাবো এরকমটা ঠিক নয়। তাদের অভিভাবকেরাও এ ব্যাপারে যত্নবান। আমিও তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতোই মিশি। আবার গানের ক্ষেত্রে সঠিক পথ দেখানোরও চেষ্টা করি।

আজকাল দেখা যায় একসঙ্গে মঞ্চে সহশিল্পীর সঙ্গে পারফর্ম করার পর বহুক্ষেত্রেই কোনও যোগাযোগ থাকে না। এক্ষেত্রে আপনি কী বলছেন?

এটা ব্যাক্তি বিশেষের ওপরেই নির্ভর করে। স্টেজ থেকে নেমে যাওয়ায় পর সেই শিল্পী কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে সেটা পুরোটাই তাঁর ব্যাক্তিগত ব্যাপার। তবে একতরফা ভাবে কোনও ব্যাপারই হয় না। আমি হয়তো তাঁর সঙ্গে সংযোগ রাখতে চাইছি, অথচ তিনি আমার সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না। সে ক্ষেত্রে যোগাযোগ থাকাটা মুশকিল।

আজকাল ফোকের সঙ্গে ফিউশন শব্দটি খুব শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়টি কী?

অবশ্যই শোনা যাচ্ছে এবং তা শ্রুতিমধুরও বটে। লোকসঙ্গীত এমন একটা জায়গা যেখানে সমগ্র পৃথিবীর লোক আঙ্গিকের সংযোগ রয়েছে এবং এক্সপেরিমেন্টেরও বিশাল জায়গা রয়েছে। ফিউশনকে আমি সমর্থনও করি। কিন্তু আমার মনে হয় মূল গানটিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে একটু ভাবনা-চিন্তা করে এটি করলে কোনও সমস্যা হবে না।

কোন লোকসঙ্গীত শিল্পীর গান, লেখনী ও জীবনবোধ আপনাকে টানে?

লোকসঙ্গীতের ক্ষেত্রে শ্রুতিমধুর লাগে এরকম প্রায় সব গানই আমার শুনতে ভালো লাগে। তবে কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য, যিনি লোকসঙ্গীতকে সকলের মাঝে সহজ-সরল ভাবে আনলেন। আমাদের এখানে লোকসঙ্গীতের এতোটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। উনি সেই জায়গায় এই ধারার সঙ্গীতের সঙ্গে মনের একটা সংযোগ তৈরি করেছেন। বিশেষ করে যুবসমাজ কালিকাপ্রসাদকে আদর্শ মেনেই ঝুঁকেছে লোক গানের দিকে। সেই কারণে মানুষটি আমাকে আকৃষ্ট করে, ওনার বাহুল্য বর্জিত ভাবনা আমাকে টানে। পরিতাপের বিষয় উনি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু মানুষের মৃত্যু হলেও তাঁর সৃষ্টি তো কখনোই মরে না। একজন শিল্পী তো ঠিক এই জায়গাতেই বেঁচে থাকেন। সেইখানে তিনি অমর, অনন্য এবং চিরস্মরণীয়।

লোকসঙ্গীত গাইতে গেলে কি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শেখার প্রয়োজন রয়েছে?

দেখুন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এমন একটি ক্ষেত্র যেটি শিখলে সকল ধরণের গানের ক্ষেত্রেই বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। আমরা তো নতুন শিল্পী যারা লোকসঙ্গীত শিখছি, এটা নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু যারা মূল লোকসঙ্গীত শিল্পী অর্থাৎ যাদের থেকে বিষয়টি এসেছে তারা কিন্তু কেউই যে খুব একটা প্রথাগত শিক্ষা নিয়ে গাইছেন সেটাও নয়। এটি এরকম ক্ষেত্র নয় যে আমি শিখে গাইছি। মনের ভাব খুব সহজ-সরল ভাষায় প্রকাশ করা যায় সেটাই তো লোকসঙ্গীত। তাই আমি বলবো, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শেখার বিশেষ যে দরকার রয়েছে এমনটা নয়। বাউলরাও যে খুব শিক্ষা গ্রহণ করে গান সেটাও তো নয়। তাদের গলায় যেটা আসে সেটিই তারা গান এবং সেটিই অনেক শ্রুতিমধুর লাগে।

গানকে ঘিরে আপনার কিছু ভালো বা খারাপ অভিজ্ঞতার কথা বলুন।

ভালো অভিজ্ঞতাই বেশি। মন্দও অবশ্যই আছে, যা শিক্ষা দিয়েছে। বিভিন্ন গুণী মানুষের সান্নিধ্যে আসা ভালো অভিজ্ঞতা। তাদের থেকে আশীর্বাদ পেয়েছি, সঙ্গীত নিয়ে নানান তথ্য পেয়েছি। কীভাবে সঙ্গীতকে ভালোবাসা সম্ভব তা উপলব্ধি করেছি।

খারাপ অভিজ্ঞতা বলতে প্রতারণার শিকার হয়েছি। অনেক জায়গায় সুযোগ দেওয়া হবে বলেও দেওয়া হয় নি। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি সঠিক পথে এগোনোর চেষ্টা করেছি।

রিয়্যালিটি শো কি আদৌ শিল্পী তৈরি করে নাকি তারকা তৈরি করে?

বেশ জটিল প্রশ্ন। আমি নিজে কোনদিনও রিয়্যালিটি শো-তে যাইনি এখনও পর্যন্ত। তাই আমার এ ব্যাপারে কোনও প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা নেই সেখানে গিয়ে কী হয়। আদৌ সেখানে গিয়ে কিছু হয় কিনা সেটাও জানা নেই। তবে আমার দেখে শুনে যা মনে হয়, সেই মনে হওয়া থেকেই বলছি। মানুষের মধ্যে একটি সহজাত শিল্পসত্ত্বা থাকে। রিয়্যালিটি শো এমন একটি জায়গা, যেখানে  জাঁতাকলে পড়ে সেই শিল্পসত্ত্বা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওখানে নির্দিষ্ট একটি গান শিল্পীকে বেঁধে দেওয়া হয়। দিনরাত রিহার্সাল করে সেটাই গেয়ে যেতে হয়। তার ওপর থাকে পলিটিক্স; এসব কাটিয়ে উঠে নিজেকে বাঁচিয়ে, নিজের শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা বিশাল শক্ত। তাই বলে কি রিয়্যালিটি শো থেকে কি শ্রেয়া ঘোষাল বা সুনিধি চৌহান উঠে আসেন নি?  রিয়্যালিটি শো-তে বেশ কিছু গ্রুমিং হয়, যন্ত্রসঙ্গীতের সঙ্গে সমন্বয় করে আমি কীভাবে গাইবো? মাইক্রোফোন কীভাবে ধরবো এবং ক্যামেরার সামনে কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবো সেগুলি শেখা যায়। রিয়্যালিটি শো-তে বড় শিল্পীদের সান্নিধ্যে আসা যায়। তাও বলবো, শিল্পী যে মানসিকতা এবং আকাঙ্খা নিয়ে সেখানে যায়, সেই মূল জায়গাটি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিল্পী তো প্রথম থেকেই থাকে, সেখানে গিয়ে পরে তারকা হয়ে যায়। তারকার ক্ষেত্রটাই বেশি, শিল্পসত্ত্বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গায়িকা হিসেবে এখনকার দিনে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে প্রতিভাটাই কি যথেষ্ট?

একেবারেই প্রতিভা যথেষ্ট নয়। এমন অনেক শিল্পীই রয়েছেন যারা ভালো গানবাজনা করছেন কিন্তু সঠিক পথ বা ধারণার ওভাবে নিজেকে সেভাবে তুলে ধরতে পারছেন না।

সঙ্গীতকে ঘিরে আপনার উপলব্ধি কী?

গান এমন একটি মাধ্যম যা একটা মানুষের সঙ্গে আরেকটি মানুষের সম্পর্ক খুব সহজেই গড়তে পারে। বলা হয় গানই সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা। সেক্ষেত্রে বলা যেতে পারে গান আমার কাছে বেঁচে থাকার রসদ। শুধুমাত্র পেশাদারি দিকটাই আসল সেটা নয়, গান আমি ভালবেসে করি। গান আমার দুঃখ-কষ্ট-হাসি-আনন্দ সব মুহূর্তেরই সাক্ষী। গান আমাকে অনেক কিছুই শেখায়।

অতিরিক্ত যন্ত্র-নির্ভরতা কি সঙ্গীতের ক্ষতি করছে?

হ্যাঁ, অবশ্যই ক্ষতি করছে। কারণ অতিরিক্ত যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়লে মূল গানটি বিঘ্নিত হয়। তবে সামঞ্জস্য রেখে যদি করা যায়, সেক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা নেই।

লোকসঙ্গীতকে ঘিরে আপনার স্বপ্ন কী?

লোকসঙ্গীতকে ঘিরে আমার নিজস্ব স্বপ্ন আমি এরই হাত ধরে এগোতে চাই। লোকসঙ্গীত আমাকে জীবনের মোড়গুলোকে চিনতে শিখিয়েছে। লোকসঙ্গীতকে নিয়ে আমার আরেকটি চাওয়াও রয়েছে। বিশ্বের সমস্ত দরবারে যেন তা পৌঁছে যায় এবং লোকসঙ্গীতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে এটাই আমার স্বপ্ন।

 

Promotion