Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
অর্ণব - কিছু আবিষ্কার করতে গেলে স্যাক্রিফাইস তো করতেই হবে - Exclusive Adhirath
মেঘে ঢাকা তারা

অর্ণব – কিছু আবিষ্কার করতে গেলে স্যাক্রিফাইস তো করতেই হবে

গানের জগতে পা রাখা কবে থেকে? গুরু কারা ছিলেন?

গানের জগতে পা রাখা এই বছর পাঁচেক আগে। ২০১৪ সালে। হঠাৎ করেই আসা।তবে আজকের এরকম একটা দিনের জন্য তখন প্রস্তুত ছিলাম না। এতটা ভেবে প্রবেশ করিনি।(হাসি) প্রাথমিক ভাবে গীটারে হাতেখড়ি হয়েছিলো শ্রদ্ধেয় শংকর সোম মহাশয়ের কাছে। এখন যদিও আমি ইউটিউব গুরুর দ্বারস্থ। আর আমি গত ২ বছর যাবৎ শ্রদ্ধেয় রঞ্জন বসুর কাছে ক্লাসিক্যাল প্র্যাক্টিস করছি।

এখনকার দিনে গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে শুধু প্রতিভাটাই কি যথেষ্ট?

একদমই নয়। যুগ বদলাচ্ছে, দিন বদলাচ্ছে, এখন পুরোটাই ডিজিটাল মিডিয়ার দুনিয়া। যেখানে শুধুমাত্র প্রতিভা থাকলেই হবেনা, তাকে সেই প্রতিভাটাকে সকলের সামনে তুলে আনতে হবে এবং সেটা নিজেকেই। তবে প্রতিভাবান হতেই হবে। কারণ ভেজাল জিনিস শিল্পকলায় বেশিদিন টেকে না।

মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজের ঝক্কি সামলিয়েও কীভাবে গান চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন?

আমি নিজেকে অনেকটা ধন্য মনে করি যে আমি পেশাগত ভাবে একজন মেডিক্যাল রিপ্রেসেন্টটিভ। আমরা সকলেই জানি এটি একটি সেলসের পেশা। নিজেকে অনেকটা গ্রুম করে নেওয়া যায় এই পেশার মাধ্যমে। আর যদি বলা যায় কাজের ঝক্কি তাহলে বলবো, রাতের বেলায় ঘুমটা নাহয় ১ ঘন্টা কমই ঘুমালাম। কারণ কিছু আবিষ্কার করতে গেলে স্যাক্রিফাইস তো করতেই হবে। এটাই কালের নিয়ম।

কোন কোন ধারার গান আপনি গেয়ে থাকেন?

আমার সব ধারার গানই সময়ের পরিপ্রেক্ষীতে গাওয়া হয়ে থাকে। তবে আমি স্বীকার করছি হেভি মেটাল ঘরানার গান আমি গাইতে পারিনা। সেটা আমার ভোকাল  টেক্সচারে আসেনা। কিন্তু আমি তা পছন্দ করি অবশ্যই।

সামনে কোন কাজ মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে?

একদম সামনেই আসছে “আনমনে”। আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৪টেয় যাদবপুরের শেড ক্যাফে থেকে মুক্তি পাচ্ছে অ্যালবামটি। তারপরে কিছু কোলাবরাশন আবার হবে। দু’একজনের সাথে কথাবার্তাও হয়েছে। এছাড়া নিজের একটি ব্যান্ড সেট-আপ করার চেষ্টায় আছি পুরোপুরি।

কেন এই মিউজিক অ্যালবামের নাম আনমনে?

কারণ ভিতরের অর্ণব একদিন হঠাৎ বলে উঠলো সকলের “আন” “মনে”।(হাসি)

এই অ্যালবাম মুক্তিকে ঘিরে নতুন কোনও ভাবনা কি রয়েছে?

নতুন ভাবনা বলতে সেভাবে ভবিষ্যৎকে আমি সামনে থেকে দেখি না কারণ আমি ভগবানের হাতে নিজের ভাগ্যকে ফেলে দিয়েছি। তবে রিলিজের দিন সমাজের উদ্দেশ্যে একটা স্পেশাল প্ল্যান আছে। এখন বলছি না, সেটা সেদিনের জন্যেই তোলা থাক।(হাসি)

কেন এই অ্যালবাম মানুষ শুনবেন?

“আনমনে” হলো একই চরিত্রের অন্তর্গত একটি যুবকের প্রেমের জার্নির পাঁচটি দিক। পাঁচটি গান সেভাবেই ব্যক্ত করা আছে। এই অ্যালবামটায় গানগুলো শুনে যেমনভাবে মানুষ ভালোবাসতেও শিখবে তেমনই ভালোবাসার যন্ত্রনাগুলো সম্পর্কেও সমানভাবে অবগত হবে। সবটাই ব্যক্ত করা আছে এখানে।

 

মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এই মুহূর্তে নতুনদের জায়গা ঠিক কতোটা?

এই মুহূর্তে নতুন পুরোনো বলে কিছু হয় আমি মনে করিনা। আজকের এই ডিজিটাল মিডিয়ার দৌলতে যে মানুষটি নতুন একটি গান গতকাল গেয়ে নেটে ছাড়লেন, দেখা গেল সেটিই চূড়ান্ত ভাইরাল হয়ে আজ পুরোনো হয়ে গেল। সবটাই আসলে নির্ভর করছে তার যথার্থ প্রতিভার উপর, সে কতোটা নিজেকে বাকিদের সামনে তুলে আনতে পারছে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে। আর ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গার কথা যদি বলা হয় তাহলে প্রথমে বলবো সেটা কোনোকালেই খুব সুবিধের ছিল না। আমরা যাদের আইডল বলে মানি যেমন রূপম দা, সিধু দা, কৌশিক দা, সায়ন দা, তিমির দা এনারা প্রত্যেকেই সাংঘাতিক স্ট্রাগল করেই কিন্তু আজকে এই জায়গায়। তাদের তুলনায় আমাদের স্ট্রাগল অনেকটাই কম সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে। মূল বক্তব্য প্রতিভাবান হতে হবে। সর্বোপরি সবকিছুর ঊর্ধ্বে “একজন ভালো মানুষ হতে হবে”।

গানের বিষয় হিসেবে কোন টপিকগুলি আপনার মগজে ধাক্কা দেয়?

যেহেতু প্রাথমিক ভাবে যখন আমি গানবাজনা শুরু করি তখন থেকে আমি একজন মিউজিশিয়ান (এখন আমি একজন ভোকালিস্টও বটে গত ২ বছর যাবৎ) তাই আমার কাছে একটা গানের সুর এবং তার আয়োজনটি সবথেকে বেশি জরুরি। কারণ বাংলাদেশ বারবার প্রমান করেছে একটি সহজ লিরিককেও সঙ্গীতগত দিক দিয়ে খুব সুন্দর উপস্থাপনা করে অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছনো যায়। আর বিষয়বস্তু বলতে সবরকম মানে প্রেম, রাজনীতি, পারিপার্শ্বিক অবস্থান সবকিছুই আমাকে ধাক্কা দেয়। কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে শুধু আমি পড়ে থাকিনা।

রিয়্যালিটি শো কি শিল্পী তৈরি করে নাকি তারকা তৈরি করে?

রিয়্যালিটি শো নিজের মতন সবকিছুই তৈরি করে দেয়। সমস্যা টা হলো আমাদের দর্শক বন্ধুদের নিয়ে। তারা যখন রিয়্যালিটি শো-গুলি দেখেন তখন একান্তই নিজেদের মতন বিবেচনা করেন এবং “তারকা” বানিয়ে দেন। একটি ছেলে মান্না দে বাবুর গান রিয়্যালিটি শো-তে গাইছেন মানে তাকে সারাজীবন যে কভার গান করেই বেড়াতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আমাদের দর্শক বন্ধুরা তাই তারকা বানানোর আগে তাদেরকে “শিল্পী” হিসেবে বিবেচনা করুক। এমন তো হতেই পারে ওই প্রতিযোগীর কোনো নিজস্ব গান আছে যেটাকে সে সারাজীবনেও প্রতিষ্ঠিত করতে পারলো না। দোষ টা তাই রিয়্যালিটি শো-কে কখনোই দেওয়া যায়না। বদলটা আনতে হবে সেই দর্শক বন্ধুদের মানসিকতায়।

এই মুহূর্তে বাংলায় দু-তিনটি লিডিং বাংলা ব্যান্ড বাদে অন্য কোনও ব্যান্ড চোখে পড়ছে না। এক দশক আগের সময়কেও বলা হতো বাংলা গানের স্বর্ণযুগ। সেটি কি তাহলে ফুরিয়ে যাওয়ার পথে?

যে দু’তিনটে লিডিং ব্যান্ডের কথা আপনি বলতে চাইছেন তারা কিন্তু প্রতিমুহূর্তে নিজেদেরকে ভাঙতে ভাঙতে অনেক উচ্চতর মিউজিকের দিকে নিয়ে যাচ্ছে নিজেদের এবং যেটি কিনা শ্রুতিমধুরও (Genre Specific) বটে। এই প্রশ্নের উত্তরে আমি ৩ টে পয়েন্ট বলবো,
◆ মিউজিক্যালি নিজেকে স্পেসিফিক করে ফেললে চলবে না। মনে রেখো সামনে দর্শক বন্ধুরা তোমাদের শুনে গানটা গায়ে মাখতে এসেছেন, শুধু তোমার গানের কথা শুনতে নয়। তাই তাদেরকে এমন কিছু মিউজিক উপহার দাও যাতে তারা আনন্দটা গায়ে মেখে নিতে পারেন।
◆ আজকে চারিদিকে এত ব্যান্ড, সবাই সবার কাজ নিজেরা শেয়ার করলে পরিধিটা বেড়ে গিয়ে অনেকটা হয়। কিন্তু সবার আগে সেই মানসিকতাটা আনতে হবে যে একা একা কোনোদিন ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা যায়না।।
◆ যারা তোমাদের আইডল মানে আজকে যেসব ব্যান্ডরা ১৮-২০ বছর ধরে দাপিয়ে মিউজিক করছে, তাদের মিউজিক্যাল শিক্ষাটাও কিন্তু অনেকটাই বেশি। মিউজিক এমন সাবজেক্ট নয় যেখানে গীটারে ৪ টে কর্ড ধরে সারাজীবন গানবাজনা করে যাবো। একটু শেখো। শেখার আর জানার তো কোনো শেষই নেই।
আর ভালো মানুষ হতে হবে। তাহলে এমনিই ভালো ভালো গানবাজনা আসবে। ইতিহাস বারবার ফিরে আসে। আবার স্বর্ণযুগ ফিরে আসবে। এটাই আমার বিশ্বাস।

অতিরিক্ত সফটওয়্যার নির্ভরতা কি সঙ্গীতের ক্ষতির কারণ?

সফটওয়ার বলতে এই tiktok, musical.ly এগুলো আমার মনেই হয় না কোনো শিল্পীদের ব্যবহার করা উচিত। অনেক ভালো মিউজিক্যাল সফটওয়ার আছে সেগুলো ইনস্টল করে ভালো কিছু করা যায় এসবের থেকে। আর শুধু যদি একটু মজা করার জন্যে করা হয় তাহলে সেটা ফেসবুকে দেবার তো কোনো মানেই নেই। শুধুমুধু এসব করে ফুটেজ খাবার কোনো মানেই হয়না।। মজাটা নিজেই নাও না ভাই/বোন।। আমরা তো আমাদের ছোটবেলায় এইসব অ্যাপ পাইনি। তাই বলে কি মিউজিক করতে পারছি না?

নির্দিষ্ট টিভি চ্যানেলের ট্যাগ না থাকলে সঙ্গীতশিল্পীরা বৈষম্যের স্বীকার হন কিছু ক্ষেত্রে। এ ব্যাপারে আপনার মত কী?

এটা বেশিদিন খুব একটা হবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ আগামী ৫-৬ বছরের মধ্যে ইন্টারনেট এমন একটি জায়গা নিতে চলেছে সেখানে এইরকম টিভি চ্যানেল এর স্ট্যাম্প কিছু ম্যাটার করবে না সঙ্গীতশিল্পীদের ক্ষেত্রে। যদিও এটা আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ।

একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি কী দায়িত্ববোধ রয়েছে?

শিল্পী হিসেবে এবং একজন সুস্থ নাগরিক হিসেবে আমার সমাজের বিভিন্ন অংশকে বা পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার ইচ্ছা ভবিষ্যতে রয়েছে। যার ফলে মানুষের মনের বদলটা কিছুটা হলেও সম্ভব, কিন্তু তার জন্যে আপনাদের মতো সঠিক মিডিয়া পার্টনারকেও সঙ্গী হিসেবে লাগবে। কারণ আপনারা যতটা ছড়িয়ে দিতে পারবেন, ততো সমাজ তাড়াতাড়ি বদলাবে। কারণ আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি একটা মিডিয়ার যে ক্ষমতা রয়েছে সেরম ক্ষমতা একটা প্রধানমন্ত্রীরও নেই।

গানকে ঘিরে আপনার স্বপ্ন কি?

গান কে ঘিরে স্বপ্ন বলতে…আমি এটুকুই চাই অনেক বেশি সংখ্যক সাধারণ মানুষ আমার গান শুনুক। আর গানগুলো ছড়িয়ে যাক। কেননা প্রতিটা শিল্পীদেরই নিজের গান কম্পোজ করে তাকে পূর্ণাঙ্গ আকার দিতে অনেকটা সময় লাগে। সেই সময়ের দামটা প্রত্যেকের দেওয়া উচিত একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে, ধন্যবাদ।

Promotion