EXCLUSIVE NEWS

কলকাতায় হেনস্থা খোদ হাইকোর্টের আইনজীবী, আম জনতার নিরাপত্তা কোথায়?

 

গত বুধবার সন্ধ্যায় খোদ মহানগরীর বুকেই হেনস্থা হলেন হাইকোর্টের আইনজীবী শমীক চক্রবর্তী। তাকে ফোন করে এই ঘটনা সম্পর্কে যা জানা গেল তা কিছুটা এরকম। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি মৌলালি মার্কেটের কাছে একটি পেট্রোল পাম্পে গাড়িতে তেল ভরতে যান। সেই সময় হঠাৎই পেছন থেকে একটি স্কুটার তার গাড়ির বাম দিকের চাকায় ধাক্কা মারে। গাড়িতে সওয়ারি হিসেবে ছিল দুই যুবক। স্বভাবতই তিনি ধাক্কার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা রেগে যায় ও হিন্দিতে অকথ্য গালিগালাজ শুরু করে। এমনকি তারা ওই আইনজীবীকে গুলি করার হুমকিও দেয়। শমীকবাবু এর প্রতিবাদ করলে আশপাশ থেকে আরও কিছু অবাঙালি যুবক জড়ো হয়। তারাও ওই বেপরোয়া যুবককেই সমর্থন করে। এরপর তারা শমীক চক্রবর্তীর গাড়ির চাবি কেড়ে নিতে যায়। তাঁকে মারধোরও করা হয়। স্থানীয় মানুষ এসে তাকে উদ্ধার করেন।

 

ঘটনাটি চলাকালীন অভিযুক্তরা তাকে বারবার শাসাতে থাকে। তারা বলে, তিনি যতোই আইনজীবী হন, তাদের কিছুই করতে পারবেন না। শমীকবাবু ইতিমধ্যেই তালতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বলা বাহুল্য, হাইকোর্টের আইনজীবীর সঙ্গে যদি এমন ঘটে তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতোটা, তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। এই ঘটনা  আসলে অন্য এক সমস্যার দিকে আঙুল তুলে দেয় যা অনেক বেশি ভয়াবহ। এই ধরণের ঔদ্ধত্যের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ফুটপাতে শুয়ে থাকা মানুষকে চাকার তলায় পিষে ফেলার মানসিকতা।

 

শমীকবাবু জানালেন বর্তমানে কলকাতার বুকে একধরনের ভুঁইফোড় অবাঙালী বড়লোক শ্রেণির সৃষ্টি হয়েছে। তারা  মনে করে পয়সার জোরেই থানা-পুলিশ, আইন-আদালত কিনে নেওয়া যায়। সেই সঙ্গে তার আক্ষেপ বাঙালির প্রতিবাদের অভ্যেস হারিয়ে গিয়েছে। কথার ফাঁকে তিনি এও জানান, ব্যক্তিগত জীবনে হিন্দিভাষীদের প্রতি জাতিগত বিদ্বেষ তার একবারেই নেই। তার অনেক অবাঙালি বন্ধু-সহকর্মীও রয়েছে। রাস্তাঘাটেও এই অবাঙালিদের একটা সামান্য অংশই হয়ত অভদ্রতা করে। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এই ভুঁইফোড় শ্রেণীই হয়তো পয়সার জোরে রাস্তাঘাটে আইন-শৃঙ্খলা ভাঙবে। তাতে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে বলে তাঁর অভিমত।

 

Promotion