Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
সৃজিতা মিত্র – তিলোত্তমার এক উঠতি নক্ষত্র - Exclusive Adhirath
মেঘে ঢাকা তারা

সৃজিতা মিত্র – তিলোত্তমার এক উঠতি নক্ষত্র

 

২০১৩ সালের জি বাংলার সারেগামাপা লিটল চ্যাম্পস দেখেছেন? আচ্ছা ছাড়ুন, ‘ছায়া ও ছবি’ সিনেমাটি হয়তো অনেকেই দেখেছেন। প্রথম গানটি মনে আছে? যেখানে দুই মূল চরিত্রে অভিনয় করা কোয়েল মল্লিক এবং ঋত্বিক চক্রবর্তী গাড়িতে পাহাড়ে উঠছেন। সেই সময়ে কোয়েল গাইছিলেন ‘আরেকটু উঠলেই’। এই গানটিতেই প্লে-ব্যাক হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন সৃজিতা মিত্র। এই তরুণ তুর্কি তাঁর জীবন, স্বপ্ন এবং উপলব্ধি নিয়ে কিছু কথা জানালেন ‘EXCLUSIVE অধিরথ’ কে।

‘ছায়া ও ছবি’ চলচ্চিত্রে আপনার গাওয়া ‘আরেকটু উঠলেই’ গানটি কি আপনার সিগনেচার টিউনে পরিণত হয়েছে?

সিগনেচার টিউন বলব না। কিন্তু ডেবিউ করেছি এই গানটি দিয়েই। সেদিক দিয়ে ব্যাপারটি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে যখন বলি এই কাজটির ব্যাপারে তখন ভালো লাগে। ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে, কৌশিক গাঙ্গুলীর পরিচালনায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর সুরে কাজটি করেছি। এই নামগুলোই আমার কাজটিকে একটা আলাদা জায়গা দেয়। যদিও গানটি আইডেন্টিক্যাল এখনও পর্যন্ত হয় নি। অর্থাৎ লোকের মুখে মুখে ফেরে এই জায়গাতে এখনও আমার পৌঁছনো বাকি রয়েছে।

অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় আপনার সহ-গায়ক ছিলেন গানটিতে। তাঁর সঙ্গে গাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন?

প্রথমত, একসঙ্গে গানটি ডাব করা হয়নি। আলাদাভাবে রেকর্ড করা হয়েছিল। গানটি অন্য কারও গাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কোনও সমস্যা হওয়ায় আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথমে আমাকে গানটি রেকর্ডিং করে পাঠাতে বলা হয়েছিল। আমি পাঠাই এবং সেটা ওনাদের ভালো লেগে যায়। আমিও বুঝেছিলাম এটি গানের মতো গাইলে হবে না। একটি কথোপকথনের মতো নাটকীয়তা এনেই গাইতে হবে। অনিন্দ্য আঙ্কেল জি বাংলার সারেগামাপা লিটল চ্যাম্পসে বিচারক ছিলেন। সেই সূত্রে আলাপও ছিল। তখনও ভাবিনি একসঙ্গে গাওয়ার সুযোগ পাবো। অরিজিৎ সিংহ, শ্রেয়া ঘোষাল, পাপনের সঙ্গে আমার নামটাও সিনেমায়  পর্দায় দেখানো হয়েছে এটাই বড় পাওনা।

আপনার সঙ্গীত সাধনার শুরুটা কীভাবে? গুরু কারা ছিলেন?

মায়ের কাছে ক্লাস থ্রি-তে হারমোনিয়ামের মাধ্যমে শুরু। তারপর একে একে মিতালি ব্যানার্জি, মন্দিরা লাহিড়ী, নীহাররঞ্জন ব্যানার্জির কাছে শিখি। বালু দত্তের কাছে আমার গজল শেখার সূচনা হয়। বর্তমানে শিখছি দীপ্তম সিনহা বিশ্বাসের কাছে।

কবে থেকে ভাবলেন যে গানকেই পেশা করবেন?

ছোট থেকেই যখন কেউ জিজ্ঞাসা করতো এই বিষয়, আমি বলতাম গান নিয়েই এগোব। আরেকটাও ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু শেষমেশ গানের জগতেই চলে এলাম।

মূলতঃ কোন কোন ধারার গান আপনি গেয়ে থাকেন?

আমি সবরকমই গাইতে ভালবাসি। তবে প্রায়োরিটির দিক থেকে ভাবলে সবার আগে আসবে মেলোডিয়াস গানগুলি, সেমি-ক্লাসিক্যাল এবং গজল। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ওয়েস্টার্ন মিউজিক।

এই ধারার গানগুলিই আপনার প্রথম পছন্দ কেন?

এই গানগুলির সঙ্গে নিজেকে কোথাও গিয়ে রিলেট করতে পারি। আমার গলায় এই ধারার গানগুলো যায়। তাছাড়া লোকজনের সদর্থক ফিডব্যাকও পেয়েছি।

গানের জন্য ছোটবেলায় কি কি ত্যাগ করতে হয়েছে?

ছোটবেলায় বেশকিছু বাধানিষেধ ছিল। স্কুল ছাড়া বাড়ির বাইরে বিশেষ যেতামও না। সেটা যদিও গানের জন্য ঠিক না। বাড়িতে অভিভাবকদের কথা মেনেই সেটা করতাম। আর গানের কথা ভেবে আইসক্রিম বা ঠাণ্ডা কিছু খেতাম না। কিন্তু বড় হয়ে মনে হল গলা যদি ঠাণ্ডা খেয়ে ভাঙেও, সেটা সর্বাধিক কতক্ষণের জন্য? একটা সময় ক্লান্ত হয়ে তাকেও থামতে হবে। ক্লাস এইট থেকেই গভীরভাবে গানে ঢুকে পড়ি। তাই স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা হতো। তারপর পুরোপুরি পেশাদার হওয়ার পর মা-বাবাই সিদ্ধান্ত নিলেন আমি ডিসট্যান্সে পড়াশুনা করব। এখন তো মনে হচ্ছে, কাজের চাপে কলেজটাও ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকেই করতে হবে। যদিও সেটা খুব একটা ইচ্ছে নয় আমার।

সঙ্গীত জগতে টার্নিং পয়েন্ট কী ছিল?

জি বাংলা সারেগামাপা লিটল চ্যাম্পস ২০১৩-১৪ মরসুমে প্রথম দশের মধ্যে স্থান পেয়েছিলাম। অবশ্যই সেটি তখন আমার টার্নিং পয়েন্ট ছিল। তখন থেকেই অনেকে আমাকে চিনতে শুরু করল। এখনের সঙ্গে তুলনা করলে আমি তখন খুব ভালো কিছু গাইতাম না। তাও অনেকটা এগিয়েছি জি বাংলার মঞ্চে, সেটা ভালো ব্যাপার।

উল্লেখযোগ্য কাজ কী কী করেছেন?

‘হ্যাপি পেরেন্টস ডে’ নামক যে অনুষ্ঠানটি জি বাংলায় হয়েছে সেটির টাইটেল সংয়ে আমার গলা রয়েছে। কিন্তু আফসোস আমার নাম সেখানে দেখানো হয়নি। ইউটিউবে ‘বুল্লায়ে’, ‘জালিমা’ এগুলি কভার সং করেছি। ওয়েস্টার্ন হিসেবে আমার প্রথম কাজ ‘হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া’ যেটি বহুদিনের স্বপ্ন ছিল। অতি সম্প্রতি এটি মুক্তি পেল। কলকাতার বর্তমান মিউজিশিয়ানদের সঙ্গেও বেশ কিছু কাজ করেছি। ‘পার করো হে’ বলে নিজস্ব একটি কাজও করেছি। এ.আর.রহমানের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার আরিয়ান শেখরের সঙ্গে একটি কাজ করেছি। দোলের ওপর করা এই কাজটিতে এ.আর.রহমানকে ট্রিবিউট দেওয়া হয়েছে। ‘হোলি আই রে’ নামে ইউটিউবে কাজটি রয়েছে। দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্মের হিন্দি ডাবিংয়ে গান গেয়েছি। তাঁর মধ্যে একটি হল ‘সংঘপতম’।

কোন শিল্পীদের গান ও জীবনবোধ আপনাকে আকৃষ্ট করে?

ছোট থেকে শ্রেয়া ঘোষালকে খুবই অনুসরণ করি।  আমি লতাজীর জীবনবোধ এবং গানও আমাকে খানিক প্রভাবিত করেছে। আমার ইচ্ছে যেগুলি লোকে করে এসছে সেগুলি না করে নতুন কিছু করা। তাছাড়া কী ভেবে যে কোনও গান হয়, সেটার পেছনের ইতিহাস জানি সবার আগে। রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে মান্না দে’র গান শুনি। গুলাম আলি খান, জগজিৎ সিংহ, সোনা মহাপাত্র, পাপন, অরিজিৎ সিংহ, সুনিধি চৌহান প্রমুখের গান ভালো লাগে। ওয়েস্টার্ন বলতে গেলে মেটালিকা, পিঙ্ক ফ্লয়েড, স্করপিয়ন্স সহ আরও অনেকের গানই শুনে থাকি।

গানের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের অনেকেরই মুম্বই যাওয়ার স্বপ্ন থাকে, আপনারও সেরকম কিছু আছে?

প্রথম থেকেই এই ইচ্ছেটা রয়েছে। কারণ কলকাতায় মনের মতো কাজ অনেকটাই সীমিত। ‘ইন্ডিয়ান আইডলের’ অডিশনে এক সপ্তাহ মুম্বইতে কাটিয়েছিলাম। সেখানে শিল্পীদের যোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়। সেখানে যেরকম খাটানোও হয়, তেমনি যথাযথ পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। আগামী বছর মুম্বইতে যাওয়ার একটি ভাবনা আছে। মিউজিক আরেঞ্জার হিসেবেও কাজ করতে চাই। দেখা যাক কতো কী করতে পারি?

সামনে কী কী কাজ মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে?

মোটামুটি অনেকগুলি কাজই তো এ বছর মুক্তি পেল। কয়েকটি কোলাবরেশনে কাজ চলছে। এখনও নাম জানিনা, কিন্তু বেশ কয়েকটি সিনেমার প্লে-ব্যাকে গাওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে কথা চলছে।

গ্রামে ও শহরে বিভিন্ন জায়গায় পারফর্ম করতে যান আপনি। কি কি ফারাক চোখে পড়ে?

বেসিক কোনও পার্থক্য সেরকম নেই। সবাই ভালো গান শুনতে ভালবাসে। গ্রামে খানিক আন্তরিকতা, ভালোবাসা বেশি পাই। যদিও সেটা লোকজনের ওপর নির্ভর করে। মেদিনীপুরের একটি গ্রামে শো করতে গিয়েছিলাম। গানের সেটলিস্টও হাতে চলে এসেছে। কিন্তু গিয়ে শুনছি অন্য শিল্পী সেই গান গাইবেন। তাও নতুন করে সেটলিস্ট বানানো হল। একঘেয়েমি কাটানোর জন্য মাঝে শুধুমাত্র একটি মেলোডিয়াস গান ঢোকালাম। তারপর আমাকে আর গাইতেই দেওয়া হল না। মাত্র ৩ টে গান গেয়েই নেমে যেতে হল। এটি খারাপ অনুভূতি অবশ্যই।

১০ বছরের এই সঙ্গীত সফরে কোনও এক্সক্লুসিভ অভিজ্ঞতার কথা আমাদের জানান।

শো যতো শেষের দিকে পৌঁছায়, কিছু মানুষ নিজস্ব উপভোগের জন্য মদ্যপান করে থাকেন। শেষের দিকে এনজয়টাই মুখ্য হয়ে যায়, তাদের হুঁশও থাকে না। আমি একবার একটি অনুষ্ঠানের শেষের দিকে একটি ফাস্ট বিটের একটি ভালো গানই গাইছিলাম। সেই সময় মুজরার মতো করে আমার দিকে টাকা ছোঁড়া হয়। তখন আমি গান থামিয়ে বলি যে আমরা গানটিকে একটি শিক্ষার জায়গায় দেখি, ভগবানের জায়গায় রাখি। এরকম অশ্রদ্ধা করলে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়া ছাড়া রাস্তা নেই।

গানকে ঘিরে কী উপলব্ধি হয়েছে?

লোকজন ‘মাচা শো’ গুলিতে দিনের পর দিন কপি পেস্ট মিউজিক কেন করে যাচ্ছে?  এটাই আমাকে অবাক করে। তাছাড়া অর্কেস্ট্রাগুলো একটা দেওয়াল তুলে দিয়েছে। তাদের ধারণা, তারাই শুধুমাত্র পুরনো গানগুলি ভালো শোনাতে পারে। নতুনরা সেই পুরনো নোট হয় তো পারবে না। আমি এই মুহূর্তে মাচা শো দূরের কথা, কমার্শিয়াল শোও করছি না সেভাবে। নিজস্ব সেট-আপ তৈরি করছি, যাতে মানুষকে নতুন কিছু শোনাতে পারি।

রিয়্যালিটি শো কি শিল্পী তৈরি করে, নাকি তারকা তৈরি করে?

আমি বলব তারকাই তৈরি করে রিয়্যালিটি শো। কারণ শিল্পীর মধ্যে শিল্প থাকলে সেটার প্রকাশ একদিন হবেই। সে রিয়্যালিটি শো যাক বা নাই যাক। তাছাড়া ইউটিউবের মতো সামাজিক মঞ্চে আমরা নিত্য নতুন অনেক প্রতিভাবানদের কথা জানতে পারছি। তাই মুখ চেনানো ব্যাপারটার জন্যই হয়তো রিয়্যালিটি শো-তে যেতে চাইছেন শিল্পীরা।

সঙ্গীত শিল্পে এই মুহূর্তে নতুনদের জায়গা ঠিক কতোটা?

পুরনো চেনা মুখরাই এতদিন গেয়ে আসছিলেন। তবে এখন লক্ষ্য করছি নতুনদেরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পুরনো সঙ্গীত পরিচালকরাই ৪ টে গানের মধ্যে ২ টি গান হয়তো সেলেব শিল্পীদের দিয়ে গাওয়াচ্ছেন। কিন্তু বাকি ২ টি গানে নতুনদের সুযোগ দিচ্ছেন। অরিজিৎ সিংহ একসময় চুটিয়ে কাজ করেছেন। এখন কিন্তু দেখলে দেখা যাবে যে তিনি প্রোগ্রামিংয়ে চলে এসেছেন। তিনি নিজে কম গাইছেন, বরং নতুনদের দিয়ে গাওয়াচ্ছেন বেশি।

সঙ্গীতকে ঘিরে আপনার স্বপ্ন?

গান ছাড়া কোনও কিছু ভাবাও সম্ভব না আমার পক্ষে। কোনও ভাবে কেউ কোনও ফেম বা খ্যাতি পেলেও সেটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে না। সেই একই জিনিস করে যাচ্ছে। সেখানে আমার ইচ্ছে নতুন কিছু করার। যেটা দেখে মানুষ বুঝবে গানের মধ্যে এরকম কোনও নতুন জায়গাও রয়েছে। একটা ধারার গানই শুনবে, বাকিগুলো আগে থেকেই ভালো না বলে ট্যাগিয়ে দেওয়া। এই মানসিকতার বিরুদ্ধে আমি কথা বলব। পাশাপাশি প্লে-ব্যাক গায়িকা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই।

 

 

Promotion