EXCLUSIVE NEWS

সংস্কৃতি প্রতিবাদের আরেক অস্ত্র – দেখালো শ্রীরামপুর

একদিকে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ,  অন্যদিকে রাস্তায় কত রংবেরঙের সাজগোজ। মানুষের হাসি হাসি মুখ। হবে নাইবা কেন? আজ যে জামাইষষ্ঠী! কন্যারা মায়ের আদর খেয়ে আর জামাইরা পেট পুরে খেয়ে দেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জামাইষষ্ঠী বা, ঈদ, যাই হোক না কেন, সেগুলো আনন্দ উৎসব হয়ে থাকুক। মানুষে-মানুষে বন্ধন হয়ে থাকুক কিন্তু, কখনোই যেন সেগুলো অন্ধত্বের বোঝা না হয়ে ওঠে সমাজের কাছে। মৌলবাদের থাবা যেন চেপে না ধরে মানুষের মন, মনন বা চিন্তনকে। কিন্তু সত্যি কি তা ঘটছে, নাকি আমরা এই আচার আচরণের মধ্যে বয়ে নিয়ে যাচ্ছি ভেদাভেদ, রক্তপাত আর মৃত্যুর নাম? তাই সেই মৌলবাদী মানসিকতা কেড়ে নিচ্ছে একটার পর একটা তাজা প্রাণ। এ অবস্থায় চুপ করে ঘরের কোণায় বসে থাকতে হয়তো পারেনা কিছু মানুষ। আসলে থেমে থাকতে নেই, নেমে পড়তে হয় রাস্তায় একসাথে। যেখানে রং মানে রাজনীতি নয়, ভাষা মানে বক্তৃতা নয়, গলা তুলে ক্ষমতা জাহির নয় ঠিক সেখানে। ঠিক সেখানেই, আমাদের একসাথে হওয়া, একসুরে গাওয়া।

আমাদের প্রতিবাদে নেই অস্ত্র, নেই বারুদের কালো গন্ধ। যা আছে তা হল গলার গান আর শব্দে বোনা প্রতিবাদী কবিতারা। আমরা বুঝিনা ঘরে অথবা দালানে বসে কাগুজে খবর আউড়ে যাওয়ার আড্ডা – সংস্কৃতিকে।আমরা বুঝি, সোচ্চার হয়ে মনের কথা বলাটাকে। আমরা সেই ধর্ম মানিনা, যে ধর্ম ভেদাভেদ শেখায়, মানুষকে খুন করা শেখায়, রক্তপাত শেখায় অথবা শেখায় মৌলবাদ। তাই আমরা অধার্মিক নাম নিতেও রাজি। তুচ্ছ কিছু স্বার্থ বারবার কেড়ে নিয়েছে সাংবাদিকদের ভাষা। তাই, জীবন দিয়ে তাঁরা যে আগুন লিখে গেছেন তাঁদের কলমে, সেই কলমের জন্য আমরা লড়তে চাই বারবার। আজ তাই, ধর্মের চাদর গায়ে জড়িয়ে কিছু অশুভ শক্তি ফেঁদেছে মৌলবাদের ব্যবসা।  এপার ওপার জুড়ে বেছে নিয়েছে সোচ্চারীদের হত্যালীলা,তাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল আমাদের ছোট্ট প্রাণের শহর শ্রীরামপুরের জামাইষষ্ঠীতে উজ্জ্বল, জনবহুল রাস্তার এক কোণ। আমরা, কিছু সংস্কৃতি মনস্ক মানুষেরা, এক হয়ে গানে, কবিতায় আর কথার মধ্যে দিয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম মৌলবাদ আর ধর্মব্যবসার। আওয়াজ উঠেছিল- ‘এপার ওপার দুইপারেতেই ধর্ম জিগির মৌলবাদী ব্যবসায়ীদের ফন্দি ফিকির’ এর বিরুদ্ধে। রাস্তার মানুষ পাশে দাঁড়ালেন। ভাগ করে নিলেন আমাদের এই সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের এই আবেগকে। এটুকুই আমাদের লড়াইয়ের পাথেয় হয়ে থাকবে।

Promotion