Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
বিহঙ্গ - নাট্যভাবনার মানচিত্র ছাড়িয়ে... - Exclusive Adhirath
মেঘে ঢাকা তারা

বিহঙ্গ – নাট্যভাবনার মানচিত্র ছাড়িয়ে…

ধরা যাক, কোনও এক বিকেলে নিরুদ্বিগ্ন মনে আপনি রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে চলেছেন। হঠাৎ দেখলেন, রাস্তার ধারে বেশ খানিকটা জটলা। কাছে গিয়ে দেখলেন দুটি মানুষ কীসব পোটলা-পুঁটলি নিয়ে কথা বলছে। আপনি তো এসব দেখে পুরো জমেই গেলেন। তারপর বুঝলেন এটি আসলে সমরেশ বসুর ‘আদাব’ নাটক। এটি হয়তো আপনার সামনে মঞ্চস্থ করছে ‘বিহঙ্গ’ নাটকের দল। তবে ‘আদাব’ নৈহাটির নাট্য দলটির অন্যতম জনপ্রিয় কাজ হলেও এখানেই থেমে থাকেনি তাঁরা। প্রচলিত প্রথা ভেঙে তাঁরা হয়তো তৈরি করছে নাট্য ভাবনার এক নয়া সংজ্ঞা। সেই ভাবনা আর সেই সংজ্ঞাকেই বোঝার চেষ্টা করল ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ’। দেখা যাক কী জানালো সৌপ্তিক, সর্বজিৎ, ইপ্সিতা, শ্রীময়ী, রিতেশ, দেবস্মিতারা?

দলের নাম বিহঙ্গ কেন?

এই মুহূর্তে যে ঘরটিতে ইন্টারভিউটি চলছে এই ঘরটির বয়স ২৫০ বছর এবং বিহঙ্গের বয়স ৪ বছর। এই ঘরেই আমরা সবাই প্রথম বসেছিলাম। কলেজ পাশ করার পর কিছু একটা করার তাগিদে একসঙ্গে বসেছিলাম আমরা ৫ বন্ধু। যেহেতু থিয়েটার আমাদের একটি কমন ইন্টারেস্টের জায়গা, তাই এটাকেই বেছে নেওয়া। সেই সঙ্গে একটি নাম এবং অস্তিত্বকেও খুঁজতে চেয়েছিলাম আমরা। আমি আর দীপ বলে এক বন্ধু নৈহাটির উৎসবে ঘুরছিলাম। সেখানে দীপ এক জায়গায় পাখির ছবি দেখে বলে আমরাও তো পাখির মতোই, কোথায় যাবো শেষ পর্যন্ত টা জানি না। তাহলে বিহঙ্গ নাম হোক আমাদের। সেই থেকেই আমরা বিহঙ্গ। সেই থেকেই হঠাৎই আমরা একটি শো করে ফেলি। ‘কার্টেন কল’ নাটকটির একটি শোও আমরা এই ঘরেই করেছিলাম।

বিস্মিত হয়ে একটি সামান্য ঘরে কী করে নাটক মঞ্চস্থ হল জানতে চাইলেন প্রতিবেদক।

তাঁর উত্তরে বিহঙ্গ জানালো, একটি ঘরে যদি পাঁচজন মানুষের জীবন চলতে পারে তাহলে দুটি মানুষের গল্প একটি ঘরে বলাই যেতে পারে। দর্শকের সঙ্গে যাতে দূরত্ব কম থাকে আমাদের সেটাই একসময় উদ্দেশ্য ছিল। সেই সঙ্গে এই গল্পটি ছিল একটি রিহার্সাল রুমেরই গল্প।

কীভাবে নাটকের স্বার্থে তোমরা একজোট হলে?

নাটকের স্বার্থে হয়েছি কিনা জানিনা। তবে নিজেদের স্বার্থে হয়েছি একজোট সেটা জানি। নাটককে আমাদের কী দেওয়ার আছে জানিনা। কিন্তু নাটকের থেকে অনেক কিছু পাওয়ার আছে। সুতরাং, একটু স্বার্থপরের মতোই একসঙ্গে হওয়া। তবে আমরা সবাই যেহেতু একসঙ্গে নাটক নিয়ে ভাবি তাই একসঙ্গে থাকার জন্যই থিয়েটারটি করা। নাটকটি পাশে রেখে যাপনটিও অত্যন্ত জরুরী বলে মনে হয়। তাই একসঙ্গে বাঁচা আমাদের।

ভাবনা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে নাটককেই কেন ভাবলে?

আজ সকালে আমার ইচ্ছে হয়েছিল ভাত, ডাল আর আলুপোস্ত খাবো। মা আলু পোস্ত না করায় আমি চিৎকার করে বললাম “না, আমি আলু পোস্তই খাবো”। এটাই কারণ, ইচ্ছেটাই আসল। আমি অন্য কিছু পারি না। এভাবেই মনের ভাব প্রকাশ করাটা সহজাত প্রবৃত্তি। তাই আমরা থিয়েটারটাই করবো।

কবে থেকে তোমরা থিয়েটারকে প্রফেশনালি নিলে?

উত্তরটি প্রায় হ্যাঁ অথবা প্রায় না হতে পারে। প্রফেশনালিসম কাকে বলে? অর্থের বিনিময়ে করাটাকে যদি ধরা হয় প্রফেশনাল তাহলে হ্যাঁ আমরা প্রফেশনালি করছি। একটি জার্নালে কয়েকটি কথা এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে। “এ গণিকাটি এখনও নিজের পেশার সঙ্গে নিজের মনের দূরত্বটা বজায় রাখতে পেরেছে। সেই জন্যই সে গণিকা হয়েও এখনও বিকিয়ে যায়নি”। যেহেতু আমাদের সবার পেশা পুরোপুরি থিয়েটার নয়। থিয়েটারের বাইরে নানান পেশার সঙ্গে যুক্ত আমরা। এটা বলতে গিয়ে আরেকটি প্রশ্ন চলে আসে তুমি অর্ধেক পেশা হিসেবে থিয়েটার করছো, বাকি অর্ধেক অন্য কিছু। তাহলে দুটো উপায়ে আয় করছি। সেক্ষেত্রে একটি বিষয়ে যে মনপ্রাণ দিচ্ছি তাহলে অন্য বিষয়টিও কি সমান মন-প্রাণ দাবি করতে পারে? সেক্ষেত্রে বলব, আমাদের দুর্ভাগ্য বাংলার থিয়েটার ‘বানিজ্য’ নামক শব্দটিকে দীর্ঘদিন গণনাট্য নামক আন্দোলনের মাধ্যমে বাদ দিয়ে রেখেছে। আমরা যারা পেট চালানোর কথা আমাদের ভালোবাসার শিল্পকে ঘিরেই ভাবি, সেই ভাবনাটাকেই বয়কট করে দিয়েছে। বর্তমানে ব্রাত্য বসুর মতো কিছু ব্যক্তিত্ব  কোম্পানি থিয়েটার টার্মটি তৈরি করেছেন সেক্ষেত্রেও কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে আমাদের। কোম্পানি থিয়েটারের ক্ষেত্রে  স্বাভাবিকভাবেই সকলের কাছে অর্থ এবং বানিজ্য পৌঁছে যাক সেটা কোম্পানি চাইছেও না। তাই আমাদের মতো ছোট দলের এই দৈন্য রয়েছে। তবে অন্ততঃ গণনাট্যের থেকে কোম্পানিকে আমরা এগিয়ে রাখব। কিছু লোক তো এটা করে খেয়ে-পরে বাঁচছে। তবে এই দৈন্য ঘুচবার কিছু পদ্ধতি নিশ্চয়ই আছে। সময়ের সঙ্গে সেটির সমাধানও হবে নিশ্চয়ই। এই মুহূর্তে আমরা দলের থেকে অর্থ পাই পুরোনো সেই রীতির থেকে। যা জোগাড় হয় তাঁর থেকেই যতটা নেওয়া সম্ভব তা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নাও। সেখানে কিছু অর্থও আসছে আর সেই সঙ্গে ভালোবাসাটাও জিইয়ে রাখতে পারছি।

কী কী ধারার নাটক তোমরা করে থাকো?

আমরা যখন প্রথম শুরু করেছিলাম তখন বিশেষ টাকাপয়সা ছিল না। তখন তাই রাস্তাই একমাত্র রাস্তা। স্ট্রিট ফর্মেই আমরা শুরু করি। ‘অসুখ ভাঙার পালা’ আমাদের প্রথম নাটক ২০১৪ এর জানুয়ারিতে। তবে এটি থার্ড ফর্মে করেছিলাম। তারপর ২১ শে ফেব্রুয়ারি আমরা একটি নাটক করার প্রস্তাব পাই। আমাদের সৌপ্তিক ‘আঘাত’ নাটকটির স্ক্রিপ্ট লেখে। নৈহাটির ঐকতান মঞ্চে নাটকটি প্রসেনিয়াম ফর্মে আমরা করি। তারপর ফের আমরা ফিরে আসি পথনাটক ফর্মে। কিন্তু এই নাটকটি কোনোভাবেই স্ট্রিট ফর্মে করা যেত না। আমরা বর্তমানে যেখানে রিহার্সাল করি সেই সঞ্চলি স্কুলের পেছনে গাছপালা সম্বলিত একটি জায়গা রয়েছে। সেখানে চাঁদোয়া টাঙিয়ে আমরা ‘ইন্টিমেট স্পেস’ ব্যাবহার করে ‘অসুখ ভাঙার পালা’ নাটকটি করে ফেলি। তবে স্ট্রিট ফর্ম আমাদের শুরু ‘আদাব’ নাটকটি দিয়েই। প্রায় ২৪ টি শো হয়ে গেল পথনাটক হিসেবে। প্রসেনিয়ামেও একবার হয়েছে এই চলতি বছরের গোড়ার দিকে।

তোমাদের নিজেদের লেখা কোনও নাটকের ব্যাপারে জানাও।

‘আঘাত’ এবং ‘বোকা’ আমাদের নিজেদের লেখা নাটক। ‘বোকা’ নাটকটি একটি আইডেন্টিটি ক্রাইসিসের গল্প। একটি শহরে বিনা কারণে আত্মহত্যা করে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে। তাঁরা কোনও রাজনৈতিক কোনও ব্যাক্তিত্ব নয়। তাঁরা আসলে নো বডি। তাঁরা কেউ না। এদিকে পুলিশি তদন্তকে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে। কিন্তু মৃতরা এসে গ্রাস করছে জনার্দনকে। এখানে জনার্দন প্রতীকী।

এখনও পর্যন্ত কী কী উল্লেখযোগ্য কাজ করেছো?

সবকটি নাটকই আমাদের কাছে সন্তানের মতো। তবে মানুষের কাছে সাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘আদাব’ এগিয়ে। তারপরেই তালিকায় রাখতে হয় ‘অক্টোপাস লিমিটেড’, ‘কার্টেন কল’, ‘অন্য আলোর পালা’। ‘অন্য আলোর পালা’ এবং ‘আদাব’ কে জুড়ে একসঙ্গে ‘গল্পে যেমন বলে’ কাজটিও মানুষের কাছে পৌঁছায়। বিহঙ্গ ‘তাসের দেশ’ নাটকটির ৩ টি শো করে। কিন্তু এই কাজটির ক্ষেত্রে মাথায় আসে এতো নিয়মের যান্ত্রিকতা নিয়ে তাস এতো সুরে কেন কথা বলবে? সে তো যান্ত্রিক হবে। তাই ‘চলো নিয়ম মতে’ গানটি আমরা বেসুরো রাখি। এক্ষেত্রে ‘তাসের দেশ’ সিনেমাটির কাছে আমরা খানিক কৃতজ্ঞ। দৃশ্যগত দিক থেকেও আমরা যান্ত্রিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। ‘তাসের দেশ’ নাটকটির পরেই মানুষ প্রসেনিয়ামে থিয়েটারে বিহঙ্গকে প্রথম চেনে। ‘বোকা’ প্রোডাকশনটি আমাদের খুব কাছের হলেও মাত্র একটি শোই করা সম্ভব হয়েছিল।

‘আদাব’ কি তোমাদের সিগনেচার টিউনে পরিণত হয়েছে?

নিঃসন্দেহে বিহঙ্গের সব থেকে বেশি অভিনীত নাটক ‘আদাব’। কিন্তু সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে সিগনেচার টিউন ভাবা হলে টিউনটা ঠিকঠাক যায় না।

‘অক্টোপাস লিমিটেড’ নাটকটির ব্যাপারে যদি কিছু জানাও।

এটি মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের ‘অক্টোপাস লিমিটেড’ অবলম্বনে তৈরি। কিন্তু বর্তমানকে মাথায় রাখতে গিয়ে সংলাপে কিছু অদল-বদল ঘটাতে হয়েছে। মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে যেমন এটি বলা সম্ভব না, “সুযোগ নিন সব্যসাচী সুযোগ নিন। সুযোগ আপনাকে নিতেই হবে, কারণ সুযোগ না নিলে আপনিও হয়ে পড়বেন শ্যামবাজারের নেতাজির মূর্তির মতো একা”।

এতদিনের পথচলায় কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের কথা বল।

বিহঙ্গ প্রথম ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি কলকাতায় জ্ঞানমঞ্চে প্রথম শো করতে যাওয়াটা স্মরণীয়। ‘অক্টোপাস লিমিটেড’ নাটকটি পারফর্ম করাটাও বেশ স্মরণীয়। পশ্চিমবঙ্গে ছাত্র যুব উৎসবে ‘অক্টোপাস লিমিটেড’ এই বছর নৈহাটি থেকে প্রথম স্থান অর্জন করে। জেলার মধ্যেও এটি প্রথম হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় পঞ্চায়েত ভোট সংক্রান্ত জটিলতায় রাজ্য পর্যায়ে ২ টি জেলা অংশগ্রহণ করতে পারে না। তাঁর মধ্যে আমাদের জেলাও ছিল। জেলায় আমরা সেরা নির্দেশক, সেরা অভিনেতা এবং সেরা প্রোডাকশনের খেতাবও জিতে নেয়।

আরেকটি অনন্য অভিজ্ঞতা হয়েছিল যখন হুগলীর জয়কৃষ্ণপুরে আমরা নাটক করতে যাই। ‘আদাব’ নাটক করার প্রস্তাব পেয়েছিলাম সেখানে, যদিও সময়সীমা ছিল ৪০ মিনিট। কাজেই আমরা ‘অন্য আলোর পালা’ এবং ‘আদাব’কে মিলিয়ে ‘গল্পে যেমন বলে’ মঞ্চস্থ করার কথা ভাবি। ‘অন্য আলোর পালা’ আসলে ফটিক বলে একটি চরিত্রের গল্প যে শৈশবেই মা-বাবাকে হারায়। শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যে মাঝি তাকে পার করে দেয় সেই মাঝি আসলে ‘আদাব’ এর মাঝি। নতুন শহরে খাওয়ার দোকানে খেতে গেলে চোর অপবাদে দিয়ে ফটিকের সম্বল ১০০ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। এই বিপদে ফটিককে ১০০ টাকা দেয় এক সুতা মজুর। সেই সুতাকলে কাজ করা মজুরটিই আদাবের অপর মূল চরিত্র। জয়কৃষ্ণপুরে মাটির দোতলা ঘরে ছিলাম যেটি সত্যিই অন্য অভিজ্ঞতা। যথেষ্ট আদর-আপ্যায়ন পেয়েছিলাম সেখানে। পুজোর সপ্তমীতে সেখানে শো ছিল। অন্য এক বন্ধুর লেখা ‘ফুল ও মালা’ বলে আরেকটি নাটকও করেছিলাম। একটি বাস দিনের শেষে গ্যারেজে ফিরে যাচ্ছে। সে সময় একটি ছেলে ফুল নিয়ে বাসে ওঠে। বাসের কন্ডাকটার এবং চালক ফুলটিকে মলেস্ট করে। ফুলটি আসলে এখানে একটি মেয়ের প্রতীক। কিন্তু সেই ফুলটিও যে প্রতিবাদে একটি মালা হয়ে সেই দড়ি হিসেবে গলায় চেপে বসতে পারে সেটিও দেখানো হয়েছে।

শ্রোতাদের জন্য ‘বোকা’ নাটকটির গান

এতোদিনের সফরে তোমাদের কী উপলব্ধি হয়েছে?

সব থেকে ভালো বন্ধু এবং শত্রু হওয়ার জায়গা তৈরি করে থিয়েটার। নৈহাটির ঐকতান মঞ্চে সৌপ্তিক একটি নাটক দেখতে গিয়েছিল। পাইকপাড়া ইন্দ্ররঙ দলটির ‘অদ্য শেষ রজনী’ যে নাটকটির শুরুতে মঞ্চ জুড়ে ছিল একটি ট্রাম। যেই সেটটি ব্যাক্তিগতভাবে সৌপ্তিকের ভালো লাগেনি। তারপর যথাসময়ে অভিনেতাদের অভিনয়ের পর নাটকটির সমাপ্তি ঘটে। তাছাড়া আরেকটি ঘটনাও নাটক চলাকালীন ঘটে। নাটকটির কল শো-র ডাক যারা দিয়েছিলেন, সেই সময় নাট্য সমন্বয় কমিটির এক ব্যাক্তির মোবাইল বারবার বেজে ওঠে। সেটের গঠনমূলক সমালোচনা এবং ফোন বাজার প্রতিবাদের জায়গা থেকেই সৌপ্তিক ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়। তারপর সেই ব্যাক্তি এবং তাঁর সমন্বয় কমিটি অত্যন্ত খারাপ ভাষায় সৌপ্তিককে আক্রমণ করেন। এটি ব্যাক্তিগত আক্রমণ ছিল না। আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয় ‘বিহঙ্গ’ দলকে। থিয়েটার তো কথা বলতে শেখায়, প্রশ্ন তুলতে শেখায়। এক্ষেত্রে একটি সত্যি ঘটনা চেপে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়, হুমকিও দেওয়া হয়। একটি ব্যাক্তিকে আক্রমণ করতে গিয়ে একটি দলকেই টেনে আনা হল, তাঁর নামে হুইসপার ক্যাম্পেনিং করে সেটিকে লোকের চোখে খারাপ প্রতিপন্ন করার চেষ্টা হল।

কোন কাজ মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে?

‘আজগুবি’ নাটকটি ২৯ শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ঐকতান মঞ্চে মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এটির থিমটাই আজগুবি। ৫ টি ঘটনা সেটি কাল্পনিক অথবা বাস্তব। সেটি কিন্তু একটি ঘটনাও হতে পারে। এই ভাবে কনফিউশন তৈরি করতে করতে যাওয়া। এটির লক্ষ্যণীয় বৈশিষ্ট্য শেষে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো।

কোন কোন নাট্য ব্যাক্তিত্বের নাটক তোমাদের প্রভাবিত করে?

হয়তো সেইভাবে কোনও প্রভাবই নেই। আবার হয়তো হতে পারে প্রভাব রয়েছে কিন্তু আমরা সে বিষয়ে একেবারেই সচেতন নই।

একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি কতোটা দায়িত্ববোধ রয়েছে?

কে বলেছে কোনও দায়িত্ব থাকতে হবে? সমাজের কী শিল্পীর প্রতি কোনও দায়বদ্ধতা আছে? যদি থাকে তাহলে সেই মাপকাঠিতে দাঁড়িয়ে শিল্পীরও  সমাজের প্রতি দায়িত্ব আছে। ‘হ্যাঁ, আমরা মানুষের জন্য থিয়েটার করি’ এসব দাবি-টাবি আমাদের নেই। যে দেশে খাদ্য সমস্যার সমাধান নেই, সেই দেশে শিল্পের জন্য গ্রান্ট দেওয়া হয়! বেসিক্যালি এটা তো ইন্টেলেকচুয়াল মাস্টারবেশনের জন্য দেওয়া হয়। এই অপচয় যেখানে হয় সেখানে শিল্পীর সমাজের প্রতি এবং সমাজের শিপ্লীর প্রতি দায়বদ্ধতার সমীকরণটাই তো গোলমেলে হয়ে যায়। হয়তো কিছু দিচ্ছি সমাজকে, কিন্তু সে বিষয়ে সচেতন নই একেবারেই।

থিয়েটারের সঙ্গে তোমাদের জীবনের দূরত্ব কী শূন্য? এই থিয়েটার ঘিরে কী স্বপ্ন রয়েছে?

দূরত্ব একেবারেই শূন্য না হলেও শূন্যের কাছাকাছি। আমরা বিহঙ্গের যে ক’জন আছি তাঁরা কেউ সুস্থ মানুষ নই, সকলেই পাগল। যদি কেউ সুস্থ হতাম তাহলে যেভাবে বসে আছি স্বাভাবিকভাবে, হঠাৎ করে বলতাম না “এই এই, আরেকবার ঘুরে বোস তো দেখি, এটাকে তো ওইখানে নাটকে কাজে লাগানো যায়।” এমনি আমরা আড্ডা মারছি, সেখানে যা কিছু ঘটে সেটাই আমাদের মাথায় ঘোরে। তবে এরপরেও নাটকের সঙ্গে আমাদের জীবনের দূরত্ব পুরোপুরি শূন্য নয়। থিয়েটার করা বলতে যা বুঝি তাঁর বাইরেও আরেকটি থিয়েটার আছে। অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘নানা রঙের দিন’ নাটকে একটি সংলাপ বলেছেন। “যারা বলেন থিয়েটার একটি পবিত্র শিল্প তাঁরা সব গাধা”। এখন বুঝি এর মানে। টাকাটা কীভাবে আসবে সেটাও ভাবতে হচ্ছে, এটি তো থিয়েটারের ভাবনা নয়। গ্রান্টভোক্তা দলগুলিও তো সর্বক্ষণ গ্রান্টের কাগজ তৈরি করে যাচ্ছে তাহলে নাটকটি কখন করবে? কারণ পেট তো চালাতেই হবে সকলকে। তাই থিয়েটারের সঙ্গে জীবনের দূরত্ব একেবারেই শূন্য নয়।

মানুষ যেমন বহুমূল্য টাকার টিকিট কেটে মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে যাচ্ছে, ঠিক তেমনিই বর্তমানে কলকাতার বেশ কিছু নাট্যদল দামি টিকিট করেও দর্শক টানার সাহস দেখিয়েছে। এ ব্যাপারটি কীভাবে ব্যাখ্যা করতে চাও?

বিহঙ্গ এটির উত্তরে ঘুরিয়ে প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন, আপনি কোনও খেলার লাইভ টেলিকাস্ট দেখতে পছন্দ করেন নাকি হাইলাইটস আপনার ভালো লাগে? প্রতিবেদক জানালেন, লাইভ দেখবো কারণ সরাসরি উত্তেজনাটা অনুভব করা যায়।

তখন বিহঙ্গ বলে, সিনেমা তো সেই মরা জিনিসটা দেখায় চকচকে মোড়কে। নাটক একটি জ্যান্ত জিনিস দেখায়। আর যারা টিকিট কেটে নাটক দেখছেন তাঁরা তো আসলে বিনোদন কিনছেন। অথবা স্ট্রিট শো তেও কাপড় পেতে টাকা তুলছেন। কেন? কারণ আমি যে গল্পটা শোনালাম সেটি আগামীবার শোনানর জন্য আমার কিছু রসদ দরকার, আমাকে কিছু দাও। স্বাভাবিকভাবেই তাই বেশি টাকা দিয়ে থিয়েটারের টিকিট বেশি টাকা করাই যায়। কিন্তু কোথায় করা উচিৎ? নৈহাটিতে নিশ্চয়ই ২০০ টাকার টিকিট করা সম্ভব নয়। সেখানে আমি কম টাকায় বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবো। এরপর নৈহাটিতে আইনক্স চলে এলে মঞ্চে নাটকের টিকিটের দাম আরও কমবে। কারণ মরা জিনিসটার যে জৌলুস সেটা তো আমরা দিতে পারছি না। তবে একটা সময় জৌলুস থেকে যায়, কথাগুলো হারিয়ে যায়। তবে হ্যাঁ, বর্তমানে বাংলা থিয়েটার একটি সেতু গঠনের কাজ প্রতিনিয়ত করে চলেছে। কলকাতায় যারা ইউথ থিয়েটার করেন তাদের ক্ষেত্রে ২০০ টাকার টিকিট পর্যন্ত জিএসটি লাগছে না। বেসিক্যালি ‘সার্ভাইভ্যাল অব দ্য ফিটেস্ট’ তত্ত্ব অনুসরণ করা। আমি নিজে খেয়ে বাঁচলে তবে তো অন্যকে খেতে দেব! আমি অতো মহান নই, সেই মহত্ব সময় আমাদের কাউকেই দেয় নি।

 

 

 

 

 

 

Promotion