EXCLUSIVE NEWS

বাতায়নের খোলা হাওয়া ঝাপটা মারুক তোমার মনেও – স্মৃতির আঁতুড়ঘর থেকে

হুগলীর খন্যানে ৪ বছর আগে বাতায়নের স্বপ্ন দেখা শুরু। স্থানীয় আদিবাসীদের কাছে শিক্ষার এক নতুন আঁতুড়ঘর হিসেবেই হয়েছিল তাঁর জন্ম। একটা চাতালকে ভরসা করেই তাঁর যাত্রা হয়েছিল শুরু। মূলতঃ জমিতে কাজ করা ক্ষেতমজুর বা বাজারে সব্জি বিক্রেতার ছেলেমেয়েরাই এখানকার ছাত্রছাত্রী। নাহ, এটা আর পাঁচটা এনজিও নয় মোটেই, নয় কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। ‘বাতায়ন’ কথার মানে একটি জানলা। যেই জানলা দিয়ে অনেকটা আকাশ দেখার পাশাপাশি একসাথে বেঁচে থাকার পাঠও শেখানো হয়। যে জানলা তাই ‘বাতায়ন’ শুরুর সে দিন থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের ওপরেও জোর দিয়েছে সমান ভাবে। 


রবীন্দ্র-জয়ন্তী বা প্রাক-শারদোৎসব পালনের পাশাপাশি বাতায়নের কচিকাঁচাদের উদ্যোগেই বার্ষিক উৎসবও পালন হয়ে আসছে প্রতি বছর। ২০১৮ এর ৬ এবং ৭ জানুয়ারি খন্যানে হাড়কাঁপানো শীতকেও হার মানাল উৎসবের আন্তরিকতার উষ্ণতা। খন্যান স্টেশন নেমেই একটি পোস্টারে চোখ আটকে গেল। তাতে লেখা “নীল নীল আকাশের কাছে আজ যাওয়া চাই, স্বপ্নের রঙে আজ মনে রং মাখা চাই, উদাসীন থেকো না সাড়া দাও।” ছোটদের এমন আমন্ত্রণ উপেক্ষা করাই যে আসলে মুশকিল। ৬ তারিখ বিকেল থেকে বাতায়নের বাচ্চাদের নাচ-গান মন ভরালো। মুখ্য আকর্ষণ ছিল বঙ্গ পুতুলের পুতুল নাচ এবং মুর্শিদাবাদের সহরা রায়বেঁশে যুবগোষ্ঠীর নিবেদন। ৭ তারিখও সন্ধ্যে নামার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চে শুরু হয়ে গেল সবুজের অভিযান। একের পর এক গান, নাচ, নাটকের পারফরমেন্সই নয়; শিশুদের সরলতাও মুগ্ধ করল দর্শকদের। তাদের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেন কোথাও গিয়ে তাদের ভালো থাকার কথাই জানান দিচ্ছিল। সবশেষে মঞ্চের দখল নেন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুধীর ক্ষ্যাপা।


অনুষ্ঠান শেষে বাতায়নের এক শিক্ষিকা স্নেহা জানান, তারাও শিশুদের কাছে জীবনের পাঠ শিখতেই সেখানে যান। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের অনুদানেই মূলতঃ এই উদ্যোগটি চলে। আলাপ হল তোর্সার সঙ্গে, যিনি বাতায়নের কচি-কাঁচাদের কাছে আদরের মুনিয়া দি। তিনি জানালেন, প্রায় ১০০ ছাত্রছাত্রী এবং ৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এই স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তিনি আরও জানান, নানান সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কারনে পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েরা যাতে শিক্ষা পায় এবং নিজের কথা মন থেকে ভাবতে ও বলতে পারে সেই কারনেই ‘বাতায়ন’ গড়ে ওঠে। তাই তাদের পাশে ও সাথে থেকে তাদের নিজের মতো করে ভাবতে ও বলতে শেখানোই এখানে গুরুত্ব পায়। স্কুলের সিলেবাসের পাশাপাশি বিকল্প শিক্ষাও সমানভাবে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের মননে। বিজ্ঞান পড়ানোর সময় জোর দেওয়া হয় ব্যবহারিক অনুশীলনেও।

Promotion