Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
ফুলেরা কোথায় ফোটে? - Exclusive Adhirath
Editorial

ফুলেরা কোথায় ফোটে?

রাস্তার পাশের দোকানগুলো তখন সবে খুলতে শুরু করেছে। প্রতিদিনের মতোই স্টেশন চত্বরে চরম ব্যস্ততার ছবি। একের পর এক ট্রেনের ঘোষণা আরও একটু বাড়িয়ে দিচ্ছে সেই ব্যস্ততা। শেষ মুহূর্তে কিছু লোকের পড়ি কি মরি ট্রেন ধরার চেষ্টা দেখে মনে হয় ভারতবর্ষে উসেইন বোল্টের সংখ্যা নেহাত কম না।আবার কারো ওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে ঘন্টা খানেক আড্ডার পর “ট্রেনে বড্ড ভিড়, পরেরটা ধরা যাক” গোছের মনোভাব।
যাই হোক সেদিনও প্রতি শুক্রবারের মতো আস্ত একটি ট্রেন সমান লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম টিকিট কাটতে। সে লাইন আর এগোয় না। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে প্রায় অধৈর্য কয়েকজন লোক অজানা কারো উদ্দেশ্যে কয়েকটা কড়া কথা ছুঁড়ে দিল। শ্লথ গতিতে এগোতে এগোতে অবশেষে কাউন্টারে এসে পৌঁছলাম। হঠাৎ আমার কুর্তিতে পরল টান। তাকিয়ে দেখি ছোট্ট একটি ছেলে। সারল্যে ভরা কালিঝুলি মাখা মুখটা। পরনে ওর থেকে অনেকটা বড়, নোংরা, শতচ্ছিন্ন পোশাক যা বারবার ওর কাঁধ থেকে নেমে যাচ্ছে।গায়ে অসহ্য দুর্গন্ধে ওর সামনে দাঁড়ানো দায়। বুঝতে পারলাম লাইনে দাঁড়িয়ে কাকুদের ভর্ৎসনা তারই উদ্দেশ্যে। টিকিটটা কেটে নিয়ে ওর কাছে গেলাম। কদিন আগে ওরই বয়সের একটি মেয়েকে দিনদুপুরে স্টেশনে বসে ডেনড্রাইট নিতে দেখে আর টাকা দেওয়ার সাহস হলো না এই পুঁচকেটাকে।বললাম “টাকা দেব না, কি খাবি বল কিনে দিচ্ছি।” আমার কথায় বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে ও ঠিক আগের মতোই আমার কুর্তি ধরে টাকা চাইতে লাগলো।ওর আচরণ যে কৃত্রিম এবং তা কারো শিখিয়ে দেওয়া এটা স্পষ্ট।কিছুটা দূরের থেকে ওকে দেখছিলাম। “অভিনয়” ফেলে ও মাঝেমাঝেই আপন মনে খেলছিল। আর পাঁচটা সাধারণ বাচ্চার থেকে ওকে তখন একটুও আলাদা লাগছিল না। হঠাৎই একটা দমকা হাওয়ার আমার হাত থেকে টিকিটটা উড়ে গিয়ে পড়লো বেশ কিছুটা দূরে। আমি তুলতে যাওয়ার আগেই ছেলেটি এক দৌড়ে ধরে ফেলল টিকিটটা,তারপর হাসতে হাসতে আমার হাতে তুলে দিলো। ওর চোখে মুখে তখন কাউকে সাহায্য করতে পারার তৃপ্তি। গাল টিপে ওর হাতে ব্যাগে থাকা একটা চকলেট দিলাম। সেটা নিতে এবার ও আর আপত্তি করল না। “থ্যাংক ইউ” বললাম, জানিনা ও মানে বুঝল কিনা, তবে এটা বুঝলো আমি কৃতজ্ঞ।নিষ্পাপ একটা হাসি হেসে ও আবার গিয়ে বসল টিকিট কাউন্টারের সামনে।আবার টান দিলো অন্য কারো জামায়। ঘোষণা হল ডাউন ব্যান্ডেল-হাওড়া লোকাল।পা বাড়ালাম স্টেশনের দিকে। ছেলেটিকে আর কখনো দেখিনি ওখানে। তবে ওর হাসিটা যেন  ভেসে বেড়ায় শেওড়াফুলি স্টেশনের আনাচে কানাচে।
আপাত দৃষ্টিতে হয়তো ঘটনাটি খুবই সামান্য। এমন বিভিন্ন ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে কারো না কারো সাথে। কিন্তু এই ছোট্ট ঘটনাটা গভীর দাগ কেটে গেছে আমার মনে। বাড়িয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার পথ শিশুদের দায়িত্ববোধ। হয়তো আমারই মতো এমন অনেকেই প্রভাবিত হয়েছেন এমন কোন ঘটনায়। তাই হয়তো এই হাজার হাজার পথ শিশুদের অনেকেই টিকে থাকার নয় খুঁজে পেয়েছে বেঁচে থাকার পথ। ওদের জন্ম-মৃত্যু যে শুধুই ফুটপাথ,স্টেশন আর অপরাধ জগতের গহীন অন্ধকারে নয় তা ওদের বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই। ওদের মধ্যেই কেউ হয়তো দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের এক আলোক রশ্মি।আগুনের একটি স্ফুলিঙ্গ থেকে যেমন দাবানল হতে পারে তেমনি আমাদের ছোট্ট কোনো প্রচেষ্টায়, সামান্য একটু উৎসাহ দানে ওরাও হয়তো একদিন চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।

Author Profile

Sara শ্রাবন্তী মুখার্জী