Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
পাঁচ বছরেই মা - গল্প হলেও সত্যি - Exclusive Adhirath
Editorial

পাঁচ বছরেই মা – গল্প হলেও সত্যি

চিত্র ঋণ – গুগল
উইকিপিডিয়াতে উঁকি দিলেই দেখা যাবে সবচেয়ে কম বয়সে মা হওয়ার তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। এদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে ১০ বছরের নিচে। কম বয়সে মা হয়েছে কথাটা যথেষ্টই ভয়াবহ। তবে তাঁর থেকেও অনেক অনেক বেশি ভয়াবহ যে কারা এই সন্তানের বাবা! শুনলে অবাক হবেন, সেই তালিকায় রয়েছে শিশুটির প্রতিবেশী, আত্মীয়, কাকা, দাদা, দাদু এমনকি তার বাবাও।
তবে আজকের প্রতিবেদনের বিষয়টি বেশ অন্যরকম। অন্ততঃ সেই সময়ের সংবাদপত্রের অন্যতম রসদ ছিল সেই মেয়েটি, যে ‘সবচেয়ে কম বয়সী মা’ এর তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে।
                           পেরুর বাসিন্দা লিনা মেডিনা মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই মা হয়েছিলেন। গর্ভধারণ অবস্থায় তার মা-বাবা মনে করেন মেয়ের পেটে বুঝি টিউমার হয়েছে। পরে ডাক্তার জানান  লিনা গর্ভবতী।ব্যাপারটিতে ডাক্তার নিজেও বেশ অবাক হন এবং এক বিশেষজ্ঞের মতামত নেন। বিশেষজ্ঞও জানান মেয়ে গর্ভবতী এবং তার মা হবার পূর্ণ সামর্থ্য রয়েছে। কম বয়সে উপযুক্ত পেলভিস না থাকায় ১৯৩৯ সালের ১৪ মে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে ‘লিনা’ একজন সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এখনো পর্যন্ত তিনি সফলভাবে সন্তানের জন্মদাত্রীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মা। আড়াই কেজি ভরের এই পুত্রসন্তানটি প্রথমদিকে তার মাকে দিদি বলেই জানতেন। তবে ছেলেটি ৪০ বছর বয়সে বোন ম্যারো রোগে ১৯৭৯ সালে মারা যান। এই সন্তানের পিতা কে তা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি। লিনার বাবাকে সেক্সুয়াল অ্যাবিউসমেন্টের জন্য আটক করা হলেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
                       এবার আসা যাক কিছু অজানা তথ্যে। যেহেতু এই সন্তানের কোনো পিতৃপরিচয় নেই তাই ধরা হয় এটি হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনতার শিকার। কিন্তু অপরদিকে আরো একটি সম্ভাবনাও প্রাঞ্জল। হতেই পারে ছেলেটি তার যমজ ভাই। ব্যাপারটা চমকপ্রদ হলেও একেবারে ভিত্তিহীন নয়। তাছাড়া শুধু মেয়ে নয়, এমন ঘটনা ছেলেদের সাথেও ঘটতে পারে। যখন মায়ের পেটে যমজ সন্তান তৈরি হয় তখন দুটি আলাদা ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি অবস্থানকারী ভ্রুনদুটির কোনো একটি তুলনামূলক বেশি পুষ্টি গ্রহণ করে অপর ভ্রূণের চেয়ে সবল ও আকারে বড় হয়ে যায়। এমতাবস্থায় যদি কোনোক্রমে ছোট ভ্রূণটি বড় ভ্রূণের মধ্যে ঢুকে যায় তবে তা আর বিকশিত হতে পারে না। ফলে বড় ভ্রূণটি বেড়ে ওঠে এবং একসময় তা পরিণত শিশুরূপে ভূমিষ্ঠ হয়। এরপর ছোট ভ্রূণটি শিশুটির মধ্যে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং শিশুটির পেট ক্রমশ ফুলতে থাকে। প্রথম অবস্থায় টিউমার মনে করা হলেও আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে সবকিছু স্পষ্ট হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ২০১১ সালে বাংলাদেশের এক ব্যক্তি তার পেটের অস্বাভাবিকত্ব নিয়ে হাসপাতালে গেলে তাকেও জানানো হয় তার পেটে টিউমার নয়, আছে আস্ত একটি বাচ্চা। কাজেই মেডিনার বাচ্চাটি তার সন্তান নয়।বরং তার যমজ ভাই।
                     লিনা মেডিনার ক্ষেত্রে ঘটনাটি রহস্য হলেও অসম্ভব না। আশা করা যায়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে এই রহস্যের সমাধানও খুব শীঘ্রই হবে।
তথ্যসূত্র:
১. Lina Medina,the youngest confirmed mother in medical history,1939
২. wikipedia:list of youngest birth mother, wikipedia.org
৩. বগুড়ায় পুরুষের পেটে মানব শিশু,দৈনিক সংগ্রাম।
৪. মাত্র ৫ বছর বয়সে মা হয়েছিল যে শিশুটি। roar. media