কাটাকুটি

ঠার্কি – ওদের ভয় পাওয়ানোটাই কি একমাত্র বিকল্প?

২০১৮ দেখেছে একের পর এক ধর্ষণ। ধর্ষকাম মানসিকতার বলি একের পর এক প্রাণ। তবে আসিফা ধর্ষণকান্ডকে বলা যেতে পারে এক জলবিভাজিকা। কারণ এই প্রথম কোনও ধর্ষণের ক্ষেত্রে, ধর্ষকদের সমর্থনে তেরঙা নিয়ে মিছিল দেখল দেশ। প্রবল চাপের মুখে পড়ে সরকার বাহাদুর তড়িঘড়ি বের করলেন এক হাস্যকর আইন। তাছাড়া পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, আগে থেকে প্রচুর আইন থাকলেও ধর্ষণ আটকানো যায়নি, বরং বেড়েছে হতাশা। এই পটভূমিতেই মুক্তি পেল প্রমিথ গাঙ্গুলীর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি ‘ঠার্কি’। কী জানালেন এই তরুণ পরিচালক তাঁর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত কাজ নিয়ে?

ঠার্কি নাম কেন? কীভাবে এই ভাবনা মাথায় এলো?

ঠার্কি শব্দের মানে হল কামুক। ঠিক যেদিন আসিফার ঘটনাটি ঘটলো তারপর থেকে আমি মাথার ঠিক রাখতে পারিনি। সমাজকে কিছু বার্তা দেব এই কথা মাথায় রেখে ভাবনাটি ভেবেই ফেলি।

ছবিটির বিষয় বস্তু নিয়ে কিছু বলুন।

এটির যে মূল চরিত্র সে ২৩ বছরের একটি মেয়ে। ৫ জন তাকে গণধর্ষণ করার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি হাসপাতালে। ধকল সইতে না পেরে মেয়েটি সেখানেই মারা যায়। তারপর মেয়েটির দেহ মর্গে নিয়ে যাওয়া হল পোস্টমর্টেমের জন্য। মর্গের দায়িত্বে থাকা একটি ছেলে মৃতদেহকে শেষবারের মতো পরীক্ষা করে পাঠাবে ময়না তদন্তের জন্য। এই ছেলেটি ‘নেক্রোফিলিয়া’ রোগে আক্রান্ত। মৃতদেহের সামনেই সে হস্তমৈথুন শুরু করে দেয়। সেই সময় পৌরুষের এক প্রতিনিধি এসে কামুক ছেলেটির মনে ভয়ের সঞ্চার করে। তারপর কী হল তা দর্শকদের জন্যই তোলা থাক।

লিঙ্গচ্ছেদ বিষয়টি ছবিটি প্রাধান্য পেয়েছে। আপনি কি মনে করেন ধর্ষণ নামক ব্যাধি দূর করার ক্ষেত্রে এটি সমাধান হতে পারে?

আমরা মোমবাতি মিছিল থেকে পথসভা অনেক কিছুই করেছি। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে এতো আইন কানুন করেও ধর্ষণ কমছে না, উল্টে বাড়ছে। তবে একটি আইন জানি, যদি একটি মেয়ে বিপদে পড়ে, তাহলে আত্মরক্ষার স্বার্থে সে উত্যক্তকারী পুরুষের লিঙ্গে যে কোনও ভাবেই আঘাত করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশে ধর্ষণের শাস্তি কী নির্মম তা আমরা জানি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুলি চালিয়ে অপরাধীকে মেরে ফেলা হয়। কিন্তু আমার মনে হয় মেরে ফেললে তো অপরাধী বরং পার পেয়ে গেল। এখানে লিঙ্গচ্ছেদ প্রতীকী ভাবে দেখানো হয়েছে খানিক। তবে ধর্ষণের ক্ষেত্রে লিঙ্গচ্ছেদের বদলে পুরুষাঙ্গ অকেজো করে দেওয়া হোক যে কোনও উপায়ে। সরাসরি লিঙ্গচ্ছেদের প্রয়োজনও নেই। বরং সারা জীবন অপরাধী উপলব্ধি করুক তাঁর কুকর্মের ফল। এই ক্ষেত্রে সরকারেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে জেহাদের এই দর্শন কতোটা আকৃষ্ট করবে দর্শককে সে তো সময়ই বলবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক ঠার্কি।

 

মূল ভাবনা ও পরিচালনা, অভিনয় – প্রমিথ গাঙ্গুলী, সিনেমাটোগ্রাফি – প্রাচী গাঙ্গুলী, অনিশা, প্রমিথ গাঙ্গুলী; শিল্প নির্দেশনা এবং চিত্রনাট্য – প্রাচী গাঙ্গুলী, অভিনয় –  প্রমিথ গাঙ্গুলী, প্রাচী গাঙ্গুলী, পৃথ্বীজিৎ ঘোষ, ঐন্দ্রিলা দে সরকার, মধুছন্দা চক্রবর্তী, অনিশা, মাসুমা আনসারি, অহনা ঘোষ, সুতীর্থ চক্রবর্তী; টাইটেল সং – প্রমিথ গাঙ্গুলী, প্রাচী গাঙ্গুলী, ঝুমা ঘোষ, নবনীতা মুখার্জী;  আলো – পার্থপ্রতিম রায়, সৌম্যজিৎ হালদার।

Promotion