Editorial

ওদের তৃষ্ণা

 

এখনকার দিনে দাঁড়িয়ে শহরগুলোর অবস্থা ঠিক কেমন লাগে? সেই দূরদর্শী কবির কথাই ধার করে বলি, “ইটের পরে ইট, মাঝে মানুষ কীট।” মানুষ বর্তমান জীবনযাপনে, মননে, আচরণে কীটেরও অধম। আর প্রকৃত কীট-পতঙ্গ, পশুপাখিরা তো বিলুপ্তির পথে। কিন্তু আমাদের চলার পথে গাছপালা, নদী, পুকুর, জলাশয়, পশুপাখি, কীট-পতঙ্গ এরাই যদি সঙ্গে না থাকে তাহলে বাঁচাটা অসম্পূর্ণ এবং ভালবাসাহীন। ঊষায় মুরগির ডাক, পাখির কলতান, গরুর হাম্বা আমরা ভুলতে বসেছি। এদিকে মানুষ প্রতিনিয়ত তাঁর সুখে বাঁচার সরঞ্জাম তৈরি করে নিচ্ছে। কিন্তু অবলা প্রানীগুলোর কথা ভাবতে ভুলে যাচ্ছে।

পুকুর, ডোবা, জলাশয় বুজিয়ে উন্নয়নের রথ গড়িয়ে চলেছে প্রবল বেগে। রাস্তার কুকুর থেকে শুরু করে গরু, মোষ, পাখিদের জলের তেষ্টা মেটানোর কোনও সংস্থান রাখে নি এই গ্রহের সব থেকে বুদ্ধিমান প্রানী মানুষ। বিভিন্ন এলাকার ক্লাবগুলি প্রচুর অনুদান পায়। তাঁরা যদি রাস্তার দুই প্রান্তে মাটির গামলা বসায় এবং তাতে জল রাখে তাহলে অবলা প্রানীরা জল খেয়ে বাঁচে। ইতিমধ্যে আমার পাড়ায় আমি মাটির গামলা বসিয়েছি একটি টিউবওয়েলের পাশে। বেশ কিছু পশুপ্রেমী মানুষকে দেখেছি যারা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে রোজ বাসী জল রাস্তায় ফেলে দিয়ে নতুন করে গামলায় জল ভরে রাখেন। একটি গরু অন্ততঃ আধ গামলা জল খেয়ে নেয়, এতই তাঁর তেষ্টা। উত্তরপ্রদেশে সরকারি নিয়ম রয়েছে, প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর বাড়িতে প্রানীদের জলের সংস্থান রাখতে হবে। অন্যথায় চাকরি চলে যেতে পারে।

আনাজপাতির খোসাগুলি দিয়েও প্রাণীদের খাবারের ব্যাবস্থা করা যেতে পারে। একটি ভ্যাট এরকম থাকবে, যেখানে শুধুমাত্র আনাজের খোসা এবং অতিরিক্ত খাবার ফেলা হবে। কারণ বেশ কিছু প্রানী আবর্জনার ভ্যাট থেকে খাবার খেতে গিয়ে প্লাস্টিক এবং অন্যান্য ময়লা পেটে চলে যাওয়ায় মারা গিয়েছে। আমার ক্ষুদ্রবুদ্ধিতে আপাততঃ এটুকুই সমাধান বেরিয়েছে। আপনারা হয়তো আরও উন্নত উপায় বাতলাতে পারবেন। বিবেকবান মানুষদের অনুরোধ, আপনারা এগিয়ে আসুন। চলুন পরিবেশবান্ধব হয়ে বাঁচি।

Promotion