Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
ঈদে নাখোদা মসজিদের শাহী ইমাম গাইলেন মানুষেরই জয়গান - Exclusive Adhirath
প্রত্যাশার পারদ

ঈদে নাখোদা মসজিদের শাহী ইমাম গাইলেন মানুষেরই জয়গান

বড়দিনের পার্ক স্ট্রিটের মতোই ঈদের দিনেও কলকাতার পার্ক সার্কাসও সেজে উঠেছে উৎসবের আবহে। বড়দিনে পার্ক স্ট্রিটে আমরা সদলবলে হামলে পড়লেও ঈদে কিন্তু ভুলেও পার্ক সার্কাসের পথ মাড়াবো না। কারণ দুর্গা পূজো আমাদের প্রিয়তম উৎসব, বড়দিনও মোটামুটি পছন্দের লিস্টিতেই ঠাঁই পায়। আর ঈদ? ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়েছে ঈদ ওদের মানে মুসলিমদের পরব। কেন এই ভেদাভেদ মানবো? আসুন না এই বিভাজন মুছে পালন করি মানুষের উৎসব। এই পটভূমিতেই ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ’ মুখোমুখি হল নাখোদা মসজিদের শাহী ইমাম মৌলানা মহম্মদ শফিক কাজমির।

ঈদকে খুশির ঈদ কেন বলা হয়?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। ‘ঈদ’ কথার মানে হল বারবার ফেরৎ আসা। আর যে কোনও উৎসবে মানুষের খুশি হয়। ঈদও তো একটি উৎসব। তাই এতেও মানুষের খুশি হওয়াটাই খুব স্বাভাবিক।

প্রিয়জনের প্রাণ বাঁচাতে আমরা যখন ব্লাডব্যাঙ্কে থেকে রক্ত আনি তখন একবারও জিজ্ঞাসা করি না সেই রক্ত হিন্দু না মুসলমানের। অথচ মৌলবাদী শক্তির উস্কানিতে দাঙ্গায় যখন মানুষে মানুষে রক্ত ঝরে তখন আপনার অনুভূতি ঠিক কেমন হয়?

ইসলামে শেখানো হয়েছে মানুষের সঙ্গে মানুষের রক্তের সম্পর্ক। সেই জন্যই তো বিপদে একজনের রক্ত আরেকজনের লাগে। আল্লাহ্‌ বলেছেন, তোমাদের নানান যাতে ভাগ করা হয়েছে যাতে একে অপরকে চিনতে পারা যায়। আমি উঁচু জাত, তুমি নিচু জাত; আমি ফর্সা, তুমি কালো এসবের জন্য এগুলো করা হয়নি। কেউ ছোট-বড় নয়, সবাই সমান। শেখ, সৈয়দ, রাজপুত, ব্রাহ্মণ যেই হোক না কেন, চরিত্র ভালো না হলে সে ঈশ্বরের কাছাকাছি যেতে পারবে না।

সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিগুলি যেভাবে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাকে আঘাত হানছে তা কীভাবে আটকানো সম্ভব? এর জন্য কি সাধারণ মানুষের একজোট হওয়াটা প্রয়োজন?

জাতবাদী ও ধর্মবাদী যে অশান্তি করার চেষ্টা চলছে তাতে আখেরে দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখানে তাদেরই এগিয়ে আসা উচিৎ যাদের ধর্মের লোক অন্য ধর্মের মানুষকে মারছেন। ধরা যাক, যদি কোনও হিন্দু ব্যাক্তি কোনও মুসলিমকে অত্যাচার করেন সেক্ষেত্রে হিন্দুদেরই উচিৎ এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করা। অশান্তিকারী হিন্দুটিকে সামাজিকভাবে বয়কট করা উচিৎ বাকি হিন্দুদের। ঠিক একইভাবে কোনও মুসলিম যদি কোনও হিন্দুকে কষ্ট দেয়, তার সঙ্গে অন্যায় করেন তাহলে বাকি মুসলিমদের সেক্ষেত্রে তাকে বয়কট করতে হবে। সেই হিন্দুটি যাতে আর কোনও বিপদে না পড়েন না সুনিশ্চিত করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ অন্যায় দেখে চুপ করে থাকেন। হাদিশের ভাষায় একে ‘বোবা শয়তান’ বলা হয়ে থাকে। মানুষ হিসেবেই যে কোনও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। এভাবেই ভারত একটি মহান দেশে পরিণত হতে পারে। এই পথেই হয়তো বিদ্বেষকেও দূরে সরানো সম্ভব হবে আশা রাখি।

কাজী নজরুল ইসলাম বলে গেছেন, “পাগলা তাঁরা, আল্লাহ-ভগবানে ভিন্ন ভাবে যারা”। এ কথাটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

উনি তো ওনার মতো ভেবে বলেছেন। আমাদের ইসলাম ধর্মে আল্লাহ্‌ এক এবং নিরাকার। হিন্দু ধর্মে সেখানে মূর্তির পূজো হয়। কিন্তু এই নিয়ে কোনও ভেদ থাকা উচিৎ না। প্রেম-ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকা উচিৎ। আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ তো করেন রাজনৈতিক নেতারা তাদের স্বার্থে। এরা সেই ব্রিটিশ আমলের ভাগাভাগির খেলা ফের শুরু করেছেন। রাজনীতির কারবারিদের থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

আসানসোলের নূরানি মসজিদের ইমাম মৌলানা ইমদাদুল্লাহ রশিদির যে আদর্শ আমাদের দেখিয়ে গেলেন তা কি সব ধর্মগুরুদেরই আদর্শ হওয়া উচিৎ?

ইসলামের শিক্ষা হল শান্তির জন্য যদি জীবনের বলিও যদি দিতে হয় তাহলে সেটাই করা উচিৎ। এইভাবেই উনি অশান্তির পরিবেশ তৈরি হতে দেন নি। বাঁচিয়েছেন বহু সাধারণ মানুষের জীবন। এক ধর্মগুরু তাঁর ছেলে মারা যাওয়ার পরেও বলেছেন, ধর্মের নামে একটা মানুষকেও মারা যাবে না, অশান্তি করা যাবে না। যদি সেটা করেন তাহলে আমি এই শহর ছেড়ে চলে যাবো। এই দৃষ্টান্ত প্রতিটা ধর্মের ধর্মগুরুদের আদর্শ অবশ্যই হওয়া উচিৎ।

আসিফাকে তাঁর আল্লাহ্‌ বাঁচাতে পারেনি, ওদিকে উন্নাওয়ের মেয়েটিকেও তাঁর ভগবান বাঁচাতে পারল না। তাহলে ধর্ম কি আদৌ বিপদে মানুষকে বাঁচাতে পারে?

রক্ত তো রক্তই হয়। সে যারই হোক না কেন? আসিফাকে ধর্ষণ করে মারা হল মন্দিরে, যেই মন্দির মানুষের কাছে পবিত্রতার প্রতীক। আমি সব মানুষকে আবেদন জানাচ্ছি যারা এই নৃশংস কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামুন। আর যে ধর্ষিত হয়েছে তাঁর পরিবার যেন ইনসাফ পায়। উল্টোদিকে উন্নাওয়ের যে হিন্দু মেয়েটি ধর্ষিতা হলেন, তাঁর জন্য মানুষ এককাট্টা হয়ে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বিচারের দাবি করুক। তবে আফসোস আমাদের বোবা-কালা সরকার কোথায় ঘুমিয়ে আছেন জানি না।

 

বাংলার মানুষকে নাখোদা মসজিদের শাহী ইমামের বার্তা শুনে নিন ভিডিওতে

 

Promotion