EXCLUSIVE NEWS

অসুস্থ নাট্যকর্মীর পাশে থাকতে একজোট দুই বাংলা, নৈহাটি গড়লো দৃষ্টান্ত

চিত্র ঋণ – বিশাল কর

সময় – সন্ধ্যে ৬ টা। স্থান – নৈহাটি ঐকতান মঞ্চ। অসুস্থ নাট্যকর্মী সতীশ সাউকে আর্থিক সাহায্যের জন্য নৈহাটির তিনটি সংস্থা আয়োজন করেছেন এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। যার পোশাকি নাম ‘বাঙালীয়ানার উদযাপন’। চরম লড়াই করে অনুষ্ঠানকে দাঁড় করিয়েছেন নৈহাটি এস্থেটিকস, হাত বাড়ালেই বন্ধু এবং লোহাঘাট পার্ক অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশের নাটকের দল কাব্য বিলাস ঢাকা এদিনের বিশেষ চমক। তবে তখনও দর্শকাশনের ১০ শতাংশও ভরে নি। কিন্তু যেই ঘড়ির কাঁটা ৬ পেরোলো, সঙ্গে সঙ্গে হল জুড়ে মানুষে মানুষে ছয়লাপ।

আয়োজকদের হয়ে শমিথ ঘোষ বলেন, যেভাবে এক অসুস্থ নাট্যকর্মীর জন্য সাধারণ মানুষ সাড়া দিয়েছেন তাতে তাঁরা আপ্লুত। তিনি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে পাশে থাকার জন্য ঢাকা কাব্য বিলাস নাট্য দলকেও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

 

এথিনিয়ার অভিনব ‘ডান্স থিয়েটার’ মন মাতালো সবার। এথিনিয়ার পক্ষ থেকে দেবস্মিতা দেব জানালেন, সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি সম্পর্কে প্রচুর মানুষ অবগত। কিন্তু নাচের ক্ষেত্রে এই সৃষ্টির মূর্চ্ছনা আমরা এখনও খুব একটা পাই নি। তাই এই মানুষটির সৃষ্টি নিয়ে কোনও কাজ করলে মানুষকে তাঁরা কিছু পৌঁছে দিতে পারবেন, সেই সঙ্গে নিজেরাও সমৃদ্ধ হবেন।

এরপর ছিল অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ঢাকা কাব্য বিলাসের পালা। তাদের নাটকটির নাম ‘কপাল’। পদ্মার পাড়ের মানুষের জীবনে একটি মাত্রই ট্র্যাজেডি রয়েছে। আর সেটি হল পদ্মার ভাঙন। সেই ভাঙ্গনের পরে অসহায় মানুষের জীবন ফুটে উঠেছে নাটকে। ৫০ মিনিট সময়সীমা হলেও নাটকের বুনোট একবারের জন্যও আলগা লাগে নি। কখনও দর্শক পেল যান্ত্রিক শহরের প্রতি অভিমান তো কখনও ভাঙনের আগের সেই সুখের দিনগুলিই হল নাটকের উপজীব্য। প্রযোজনাটিতে সরল, সাধাসিধে গ্রাম্য মানুষের সততাও দেখানো হয়েছে। ঢাকা কাব্য বিলাসের নির্দেশক রাহুল বিশ্বাস রাজ আলাপচারিতায় বললেন, এই নাটকের প্রতিটি সংলাপে গ্রাম খুঁজে পাওয়া যাবে। আধুনিক শহরের বাচ্চারা কখনোই সেই গ্রামের রূপ দেখে নি। তাঁরা বাস্তবে দেখার সুযোগ না পাক, অন্ততঃ নাটকের কল্পনার সেই গ্রামের ছোঁয়া পাক।

এরপর মঞ্চস্থ হল উজাগর অভিনীত ‘এমনও বসন্ত দিনে’। যৌবনের স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস, প্রেম, বিরহ, ভাবনার চারাগাছ থেকে মহীরুহ হয়ে ওঠা সবই পাওয়া গেল নাটকটিতে। মাত্র ২ টি চরিত্র কিন্তু সময়সীমা তিরিশ মিনিট। এক সেকেন্ডের জন্যেও একঘেয়ে লাগে নি। বরং, দর্শক বুঁদ হয়ে পড়েন নাটকে, যার প্রমাণ দেয় মাঝে মধ্যেই তাদের স্বতঃস্ফূর্ত করতালি।

উজাগরের তরফে সর্বজিতের সঙ্গে কথা হল। একটা মানুষের ছোট থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছরই বসন্ত আসে। তবে তা কখনই একরকম থাকে না, পাল্টে পাল্টে যায়। শৈশবে একরকম বসন্ত, যৌবনে তা অন্যরকম, আবার বড় হলে তার স্বাদ ভিন্ন। এই বদলে যাওয়াটাই ধরা হয়েছে নাটকে।

সবশেষে লোকগানের দল ইপকা বেশ কিছু গান পরিবেশন করেন। আরও কয়েক বসন্ত পরেও অসুস্থ নাট্যকর্মী সতীশ সাউয়ের হৃদপিণ্ড ধুকপুক ধ্বনি তুলবে কিনা তা হয়তো আজ ভীষণরকমই অনিশ্চিত। কিন্তু হাতে হাত রেখে বাঁচার যে শপথ দুই বাংলা নিল তা সত্যিই এক দৃষ্টান্ত হয়ে থেকে যাবে।

Promotion